হৃদয় জুড়ে শুধুই তুই
পর্বঃ- ২৮
__________
" আচ্ছা আই প্রমিস, আমি আমাদের বিয়ের ব্যাপারটা কাউকে বলবোনা।"
ইশার কথা শুনে আয়াশ হেসে বললো----
" গুড। আর হ্যাঁ, আরেকটা কথা। তুই কখনো ভুলেও এই বিয়েটা মানিস না এটা মুখে বলিস না।
" কেন?
" কারণ তুই যদি একবার মুখ দিয়ে বের করিস যে তুই এই বিয়েটা মানিস না, তাহলে আমাদের বিয়েটা আর থাকবেনা। আই মিন অটোমেটিক আমাদের ডিভোর্স হয়ে যাবে। তাই প্লিজ এই কথাটা বলিস না কখনো।
" কি বলো? আমি তো জনাতাম ডিভোর্স পেপারে সাইন করলে তারপর ডিভোর্স হয়। আর তুমি বলছো আমি বিয়েটা মানি না কথাটা বললেই আমাদের ডিভোর্স হয়ে যাবে? সেটা কি করে সম্ভব?
" কারণ আমি মেরিজ রেজিস্ট্রি পেপারে সেটা উল্লেখ করে দিয়েছি। তুই যদি বিয়েটা মানিস না কথাটা বলিস তাহলে আমাদের ডিভোর্স হয়ে যাবে।
" তুমি পারোও বটে। আমি আজই প্রথম শুনলাম যে আমি বিয়েটা মানি না বললেই ডিভোর্স হয়ে যাবে। আচ্ছা আমি যে এখন কথাটা বললাম। তাহলে?
" পাগলি। এখন তো তুই সেটা কথার কথা বলেছিস।
" তাহলে কিভাবে বললে ডিভোর্স হবে?
" সিরিয়াস হয়ে বলতে হবে। ধর, তুই কোনো কারণে রেগে বলে দিলি যে তুই এই বিয়েটা মানিস না। তাহলেও ডিভোর্স হয়ে যাবে। তাই বলছি, প্লিজ তুই এই কথাটা কখনো বলিস না।
" আমি কি পাগল হয়েছি যে নিজের পায়ে নিজে কোঁড়াল মারবো? তুমি এটা নিয়ে একদম টেনশন করোনা। আমি কখনো বলবোনা এটা।
" থ্যাংকস।
" ওয়েলকাম।
" আচ্ছা এখন চল। অনেক রাত হয়েছে। ঘুমাতে দেরি হলে কাল আবার উঠতে দেরি হয়ে যাবে। কাল অনেক কাজ আছে। "
কথাটা বলে আয়াশ হাঁটা ধরলো। ইশাও আর কিছু না বলে আয়াশের পিছন পিছন রুমে ঢুকে গেলো।
" দরজাটা চাপিয়ে দিয়ে যাস। "
কথাটা বলেই আয়াশ বিছানায় এসে শুয়ে পড়লো। কিন্তু ইশাকে দরজা চাপিয়ে রুম থেকে বের হওয়ার পরিবর্তে উল্টো দরজা বন্ধ করে বিছানার দিকে আসতে দেখে আয়াশ অবক হয়ে বললো----
" ইশা! রুমে না গিয়ে এদিকে আসছিস কেন?
" কারণ আজ আমি তোমার সাথেই থাকবো।"
বলেই ইশা বিছানায় উঠে বসলো। আয়াশ আবারও অবাক কণ্ঠে বললো ----
" আমার সাথে থাকবি মানে? তুই আমার সাথে থাকবি কেন?
" কেন আবার, কাল থেকে তুমি তো আমাকে তেমন সময় দিতে পারবেনা। তাই আমি ঠিক করেছি আমি আজ তোমার সাথে থাকবো। কেন?? তোমার প্রবলেম আছে??
" পাগলি, আমার প্রবলেম থাকবে কেন? তুই হঠাৎ বিনা কারণে আমার রুমে থাকতে চাইছিস, তাই জিজ্ঞেস করলাম। আচ্ছা শুয়ে পড়। অনেক রাত হয়েছে। "
সাথে সাথে ইশা আয়াশের বুকের উপর মাথা রেখে আয়াশকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে শুয়ে পড়লো। আয়াশ তো অবাকের উপর অবাক। ইশার মাথা ঠিক আছে তো? কি সব করছে ও? আগে তো কখনো এভাবে জেগে থাকা অবস্থায় ওকে জড়িয়ে ধরেনি ইশা? তাহলে আজ কেন? কাল নাহয় ভয় পেয়ে ওর বুকে মাথা রাখার বায়না করেছিলো। কিন্তু আজ তো ভয় পাচ্ছে না। তাহলে আজ কেন?
" ইশা! তুই ঠিক আছিস? "
ইশা আরেকটু নড়েচড়ে আয়াশকে আরও শক্ত করে জড়িয়ে ধরে বললো ---
" কেন? আমার আবার কি হবে? "
" না মানে তুই তো কখনো এভাবে শুতে চাস না। তাই জিজ্ঞেস করছি আর কি। আর তাছাড়া তুই না বলিস আমার সাথে থাকলে আমি নাকি চেপে ধরে তোর হাড়গুড় সব ভেঙ্গে ফেলবো? তাহলে আজ কেন........
" আরে সেটা তো এমনিই বলি। মুভিতে দেখোনা নায়িকারা নায়কদের বুকের উপর মাথা রেখে ঘুমায়। আর তাছাড়া আমি ফেসবুকে গল্প পড়ার সময় দেখেছি, সেখানেও নায়িকারা নায়কদের বুকের উপর মাথা রেখে ঘুমায়। ইনফ্যাক্ট নায়করা নিজেই ওদের বুকে মাথা রেখে শুতে বলে। তুমি কোথায় বলবে আমাকে, তা না করে আমি ঠিক আছি কিনা জানতে চাইছো। আজব।
" তাই নাকি?
" একদম তাই।
" বাহ! আপনি তাহলে ফেসবুক ও চালান? আমার তো জানা ছিলোনা। তা ম্যাডাম! আপনাকে ফেসবুক একাউন্টটা কে ক্রিয়েট করে দিয়েছে শুনি?
" কেউ না। আমি নিজেই ইউটিউব দেখে ক্রিয়েট করেছি।
" ওওও, আজকাল তাহলে অনেক কিছু শিখে গিয়েছেন। আমাকে না জানিয়ে ফেসবুক ও চালাচ্ছেন। গুড,, বেরি গুড। "
আয়াশের কথা শুনে ইশার কেন যেন মনে হলো আয়াশ ওর ফেসবুক চালানোর কথা শুনে একটু হলেও রাগ করেছে। তাই ইশা আয়াশের বুক থেকে মুখ তুলে বাবু বাবু ফেস করে তাকালো আয়াশের মুখের দিকে। বাচ্চামো কণ্ঠে বললো ----
" প্লিজ তুমি রাগ করোনা আমার উপর? আমি জাস্ট গল্প পড়ার জন্যই ক্রিয়েট করেছি। তাছাড়া আর কিছু করিনা। এমনকি কোনো ফ্রেন্ডও নেই। আর প্রোফাইলও লক করা। প্লিজ বকা দিও না। "
এমন আদুরে গলায় বললে কারও কি সম্ভব এই বাচ্চাটাকে বকা দেওয়া? আয়াশও পারলোনা। বরং শান্ত কণ্ঠে বললো ----
" কথা বলার জন্য বুক থেকে মাথা তুলতে হয়? মাথা রাখ আর ঘুমানোর চেষ্টা কর।
" আগে বলো তুমি আ.....
" আগে শু। তারপর যা বলার বল।"
ইশা আর না পেরে আয়াশের কথা মতো আবারও আগের মতো আয়াশের বুকে মাথা রেখে আয়াশকে জড়িয়ে ধরে শুয়ে পড়লো। তারপর বললো-----
" এবার বলো, তুমি আমার উপর রেগে নেই তো?
" নাহ।
ইশা খুশি হলো। খুশি হয়ে বললো-----
" তাহলে আমার মাথায় হাত বুলিয়ে দাও। "
ইশার বাচ্চামো গুলো দেখে আয়াশ মনে মনে হাসলো। তবে ইশাকে বুঝতে দিলোনা সেটা। বরং মুখটা স্বাভাবিক রেখে ইশার মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে দিতে স্বাভাবিক কণ্ঠে বললো ----
" এটাও কি গল্পে পড়েছিস?
" কোনটা?
" এই যে মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে বললি এটা? তোর ফেসবুকের নায়করা কি নায়িকাকে মাথায় হাত বুলিয়ে দেয়?
সাথে সাথে ইশা উৎফুল্ল কণ্ঠে বললো ----
" হ্যাঁ, দেয় তো। যখন নায়িকাদের ঘুম আসেনা, বা নায়িকাদের মন খারাপ থাকে, তখন নায়করা নায়িকাদের মাথায় হাত বুলিয়ে ওদের ঘুম পাড়িয়ে দেয়।
" তাই নাকি?
" হুমমমম।
কিছু সময় রুমের মাঝে পিনপতন নীরবতা বিরাজ করলো। নিরতাকে বিদায় জানিয়ে ইশার মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে দিতে হঠাৎ আয়াশ বললো-----
" ইশা! তোকে কিছু কথা বলবো মন দিয়ে শুনবি কেমন?
" ওকে। বলো না কি কথা?
" জানিস? মানুষের মনটা বড্ড অদ্ভুত। কখন কিভাবে বদলে যায় কেউ বলতে পারেনা। তুই ফেসবুক ইউজ করিস ভালো কথা। আমি নিষেধ করছিনা। কারণ তুই এখন যথেষ্ট ম্যাচিউট হয়েছিস। বুঝতে শিখেছিস সবকিছু। আই মিন ফেসবুক ইউজ করার মতো বয়স তোর হয়েছে। বাট ঐ যে বললাম, মানুষের মন বড্ড অদ্ভুত। কখন কিভাবে বদলে যায় কেউ বলতে পারেনা। এখানেও ঠিক তাই। আমি জানি তুই গল্প পড়ার জন্যই ফেসবুক চালাস। বাট বলা তো যায় না কখন তোর মন কি রিয়েক্ট করে। তাই তোকে একটা রিকোয়েস্ট করছি আজ। ফেসবুক ইউজ করিস সেটা ভালো কথা। বাট কখনো কোনো ছেলেকে ফ্রেন্ড লিস্টে রাখবিনা। কখনো কোনো ছেলের ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট এক্সেপ্ট ও করবিনা। ইনফ্যাক্ট কোনো ছেলের সাথে যেন তোর এড না থাকে, বুঝতে পেরেছিস?
" হুমমমম।
" শুধু মুখে হুমম বললে হবেনা। কাজেও করতে হবে। আজ রিকোয়েস্ট করছি। বাট কখনো যদি কোনো ছেলেকে মিউচুয়াল ফ্রেন্ড হিসেবে দেখতে পাই, তাহলে কিন্তু খবর আছে। তখন আর রিকোয়েস্ট চলবেনা। সোজা মাইর চলবে। মনে থাকবে?
" মনে থাকবেনা আবার? মনে না থাকলে যে আমার কপালে দুঃখ আছে সেটা আমি ভালো করেই জানি।
" গুড। এখন ঘুমা। অনেক রাত হয়েছে। "
ইশা কিছু বললোনা। কারণ ও জানে, আয়াশ ওকে নিয়ে কতোটা পজেজিভ। ভাগ্য ভালো যে আয়াশ ওকে কিছু বলেনি। ও তো এটা ভেবে ভয় পেয়েছিলো যে আয়াশ ওর ফেসবুক চালানোর কথা শুনলে না আবার রেগে যায়। কিন্তু ও যেমনটা ভেবেছিলো তেমন কিছুই হয়নি। আয়াশ ওকে কিছু বলেনি। বরং বুঝিয়ে বলেছে। তাই ইশা অনেক খুশি। ইশা আয়াশকে আরও একটু শক্ত করে জড়িয়ে ধরে চোখ জোড়া বন্ধ করে নিলো। আয়াশ মুচকি হাসলো। পাগলিটা এমনভাবে ওকে জড়িয়ে ধরেছে যেন পারলে এখনই ওর বুকে ঢুকে যাবে। ইশার জায়গায় এখন যদি ও ইশাকে জড়িয়ে ধরতো, তাহলে ইশা তেতে বলতো, কি করছো কি, দেখছোনা গরম লাগছে, তার উপর এমনভাবে জড়িয়ে ধরেছো?? গরমে তো জান বেরিয়ে যাচ্ছে। কিংবা বলতো এভাবে জড়িয়ে ধরেছো কেন?? এভাবে কেউ জড়িয়ে ধরে?? মনে হচ্ছে আমার হাড়গুড় সব ভেঙ্গে গুড়ু গুড়ু হয়ে যাবে। কথাগুলো ভেবে আয়াশ আবারও হাসলো। কিছু সময় ইশার নিশ্বাসের শব্দ শুনে বুঝতে পারলো ইশা ঘুমিয়ে পড়েছে। কিন্তু আয়াশ ইশার মাথায় হাত বুলিয়ে দেওয়াটা তখনও থামায়নি। ইশার মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে দিতে কখন যে আয়াশের ঘুম এসে গেছে বুঝতেই পারেনি।
☘️☘️
পরের দিন,,, মুখের উপর হঠাৎ পানির ছিটা পড়তেই আয়াশের ঘুমটা হালকা হয়ে গেলো। কিন্তু ঘুমের রেশ এখনও কিছুটা থেকে যাওয়ায় চোখ জোড়া খুলতে ইচ্ছে করছে না। তাই চোখ বন্ধ রেখে সেভাবেই শুয়ে রইলো। কিন্তু কয়েক সেকেন্ড যেতেই আবারও মুখের উপর পানির ছিটা পড়লো। এবার আর চোখ বন্ধ করে থাকলোনা আয়াশ। শত বিরক্তি নিয়ে আড়মোড়া ভাঙতে ভাঙতে চোখ জোড়া মেলে তাকালো। সাথে সাথে আয়াশের চোখ জোড়া আটকে গেলো আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে থাকা রমনীটার উপর।
দিল কা দারিয়া বেহি গেয়া
ইস্ক ইবাদাত বান হি গেয়া
খুদকো মুঝে তু সপ দে
মেরি জারুরত
তু বান গেয়া
বাআত দিল কি নাজ্রুনে কি
সাচ কেহে রাহা
তেরি কাসাম
তেরে বিন আব না লেঙ্গে এক ভি দম
তুঝে কিতনা চাহনে লাগে হাম
তেরে সাথ হু মে জায়েঙ্গে খতম
তুঝে কিতনা চাহনে লাগে হাম
তুঝে কিতনা চাহনে লাগে হাম
তেরে বিন আব না লেঙ্গে এক ভি দম।।
ইশা আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে ঠাওয়েল দিয়ে ঝেড়ে ঝেড়ে চুল মুচছিলো, আর গুনগুন করে এই গানটি গাইছিলো। ইশাকে দেখেই বুঝা যাচ্ছে সকাল সকাল গোসল করেছে। ইশাকে এমন স্নিগ্ধ অবস্থায় দেখে আয়াশের চোখটা সেখানেই আটকে পড়েছে। মেয়েদেরকে গোসল করার পর বুঝি এমন সুন্দর লাগে? নাকি শুধু ইশাকেই এমন সুন্দর লাগছে? আর নাকি আয়াশ ওকে ভালোবাসে বলে আয়াশের কাছেই ইশাকে সুন্দর দেখাচ্ছে। আয়াশ ঘুর লাগা চোখে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলো ইশার দিকে। কিন্তু কয়েক সেকেন্ড যেতেই আবারও মুখের উপর ইশার চুলের পানি এসে পড়তেই আয়াশের ঘুরটা কেটে গেলো। তবে ওর মুখে ইশার চুলের পানি পড়ার জন্য ইশাকে কোনো রকম রাগ দেখালোনা। বরং মুচকি হেসে মাথার নিচে দুই হাত রেখে সোজা হয়ে শুয়ে ইশার দিকে তাকিয়ে সরশ গলায় বললো ----
" বাহ! আজ মনটা অনেক ফুরফুরে দেখছি। আবার মনের সুখে গান ও গাইছিস। তা গানটা কি আমাকে ডেডিকেট করে ছিলো? "
আয়াশের কণ্ঠ পেয়ে ইশা এক নজর আয়াশের দিকে তাকিয়ে আবারও আয়নার দিকে তাকিয়ে চুল গুলো ঠাওয়েল দিয়ে মুছতে মুছতে বললো---
" তোমাকে ডেডিকেট করবো কেন? আমার ইচ্ছে হয়েছে তাই গেয়েছি।
" তাই?
" হুমমমমম।
" আচ্ছা সেই না হয় বুঝলাম। কিন্তু তুই সকাল সকাল শাওয়ার নিয়েছিস কেন? শাওয়ার নেওয়ার মতো কিছু তো আমাদের মধ্যে হয়নি। "
আয়াশের কথার মানেটা ইশা বুঝতে পারেনি। তাই বিরক্তি ভরা কণ্ঠে বললো -----
" আজব! শাওয়ার নেওয়ার মতো কি হবে? আমি কলেজে যাবো তাই শাওয়ার নিয়েছি।
" কলেজে যাবি ভালো কথা। শাওয়ার নিয়েছিস সেটাও ভালো কথা। কিন্তু আমার ওয়সশরুমে নিলি কেন? এখন যদি মা কিংবা ছোট মা কেউ তোকে এই অবস্থায় দেখে কি ভাববে? তোর যদি শাওয়ার নিতেই হয় তাহলে তোর ওয়াশরুমে নিতিস। আমার রুমে নিয়েছিস কেন? এখন যদি ছোট মা আমাকে প্রশ্ন করে আমি কি বলবো?
" আশ্চর্য! এখানে কেউ কিছু ভাববে কেন? আর এখানে কিছু ভাবার মতোই বা কি হয়েছে? আমি কি আজ প্রথম সকাল বেলা শাওয়ার নিয়েছি? আমি তো কলেজে গেলে রোজই শাওয়ার নিই। আজ কি নতুন শাওয়ার নিয়েছি? আমার ওয়াশরুমের শাওয়ারটা দিয়ে পানি পড়ছেনা। তাই তোমার ওয়াশরুমে শাওয়ার নিয়েছি। এতে এতো ভাবাভাবির কি আছে?
" তোর রুমে খারাপ হয়েছে তো অন্য রুম ছিলোনা? আমার রুমেই আসতে হলো? অন্য রুম গুলোতে ও তো ওয়াশরুম আছে। সেখানে যেতিস। আমার রুমে আসলি কেন?
" তুমি বোধহয় ঘুম থেকে উঠে পাগল হয়ে গেছো। অন্য সময় যদি আমি অন্য রুমে যায় তখন বলো আমার রুম থাকতে তুকে অন্য রুমে যেতে হবে কেন? আর এখন যখন আসছি তখন বলছো কেন এসছি। আজব। ঘুম থেকে উঠে কি তোমার মাথা টাথা খারাপ হয়ে গেছে?
" ধ্যাত, তোকে বলাটাই বেকার। কেন যে কাল আমার সাথে রেখেছিলাম, আমার সাথে না থাকলে তো আর প্রবলেম হতোনা। "
নিজ মনে কথা গুলো বিড়বিড় করছিলো আয়াশ, তখনই রুমে আনিসা বেগম আসলেন। ইশাকে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে চুল মুছতে দেখে আনিসা বেগম বাঁকা হেসে আয়াশকে উদ্দেশ্য করে বললেন----
" আয়াশ কি ব্যাপার! ডাল মে কুচ কালা কালা লাগছে। কুচ হোয়া কিয়া? হুমম? "
আনিসা বেগমের কণ্ঠ শুনে আয়াশ সাথে সাথে শোয়া থেকে উঠে বসে পড়লো। মায়ের কথাগুলো ইশা বুঝতে না পারলেও আয়াশ বেশ বুঝতে পারছে ছোট মা কি বুঝাতে চাইছে। তাই আমতা আমতা গলায় বললো ----
" আ ব ব আব ছোট মা! আ ব আসলে তুমি যেমনটা ভাবছো তেমন কিছুই না।
" তাই? কিন্তু আমার তো মনে হচ্ছে এসাই কুছ।
" আ ব না ছোট মা! তুমি ভুল ভাবছো। আ ব আসলে.....
আয়াশকে আমতা আমতা করতে দেখে আনিসা বেগম বাঁকা হেসে আয়াশের পাশে এসে বসে পড়লেন। ইশা ওদের কথার আগা মাথা বুঝতে না পেরে একবার আয়াশের দিকে তাকাচ্ছে আরেকবার মায়ের দিকে তাকাচ্ছে।
" ইশা! তুই তোর রুমে যা। আমার আয়াশের সাথে কিছু কথা আছে।
" হ্যাঁ হ্যাঁ বলো। তোমার তো ওর সাথেই যতো কথা। হুহ্ "
এই বলে ইশা মুখ বাঁকিয়ে রুম থেকে বেরিয়ে চলে গেলো। ইশা চলে যেতেই আনিসা বেগম আয়াশের দিকে তাকিয়ে ভ্রু নাচিয়ে বাঁকা হেসে বললেন -----
" কি ব্যাপার হুমম? মনে হচ্ছে কাল ইশা বুঝাতে এসে ঘুষ দিতে হয়েছে? আয়াশও কি আজকাল ঘুষ নেওয়া শুরু করেছে? হ্যাঁ?
" আরে ছোট মা! তুমি যেমনটা ভাবছো তেমন কিছুই না। ইশা নাকি আজ কলেজে যাবে, আর ওর ওয়াশরুমের শাওয়ারটা নাকি নষ্ট হয়ে গেছে, তাই আমার ওয়াশরুমে শাওয়ার নিয়েছে। দেট'স ইট।
" তাই? কিন্তু আমি তো রহস্য রহস্য গন্ধ পাচ্ছি। হ্যাঁ হ্যাঁ? সত্যি করে বল তো কতো দূর এগিয়েছিস?
" সে তো তুমি পাবেই। আফটার অল আমার বেস্ট ফ্রেন্ড বলে কথা। আর বেস্ট ফ্রেন্ডের কাজই তো হলো খুঁচানো। তোমার কি মনে হয়? তোমার মেয়ের সাথে কিছু করতে পারবো? যেই ড্রামা কুইন, কিছু করার আগেই চেঁচিয়ে পুরো বাড়ি মাথায় তুলবে। এমনভাবে চেঁচাবে যেন ডাকাত পড়েছে। এই দেখো না, কাল রাতে টি-শার্ট টা পর্যন্ত খুলিনি ভয়ে।
" সে কি? তুই তো জামা পড়ে ঘুমাতে পারিস না। তোর না ঘামাচি উঠে যায়! তাহলে টি-শার্ট গায়ে রেখে দিয়েছিস কেন?
" কি করে খুলতাম? আমার টি-শার্ট খুলতে দেখলে ম্যাডাম এমনভাবে চেঁচাবে যেন আমি আমার টি-শার্ট নয় ওর কাপড় খুলতে বলছি। তাই ভয়ে আর খুলিনি। এখন তুমিই বলো, তোমার এই ড্রামা কুইন মেয়ের সাথে কিছু করা কি সম্ভব? আল্লাহয় জানে আমার কপালে কি আছে।
চলবে.....
®আয়মন সিদ্দিকা উর্মি
আপনাকে অনেক ধন্যবাদ হৃদয় জুড়ে শুধুই তুই ♥ || পর্ব - ২৮ || সেরা রোমান্টিক উপন্যাস || ভালোবাসার গল্প | AduriPakhi - আদুরি পাখি এই পোস্ট টি পড়ার জন্য। আপনাদের পছন্দের সব কিছু পেতে আমাদের সাথেই থাকবেন।
