সালেহা বানু নিজের দুর্ভাগ্যের কথা চিন্তা করে চোখের পানি ফেলছেন। এই বৃদ্ধ বয়সে নিজের একটা ভুলের কারণে তার আজ এই দিন দেখতে হচ্ছে।
জোয়ান কালে বেশ তেজি মহিলা ছিলেন তিনি। স্বামীর ব্যবসা বড় হওয়ার পর তাদের মধ্যবিত্ত নিকটাত্মীয়দের সাথে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন তিনি। প্রতিবেশীদের সাথেও সম্পর্ক ভালো না। এখন স্বামী গত হয়েছেন অনেক বেশ কয়েক বছর,ছেলে মেয়েরা লেখাপড়া করে যে যার মতো বিদেশে সেটেল্ড হয়ে গেছে। তাদের ফোন করে মায়ের খবর নেওয়ারও ফুরসত নেই। মায়ের প্রতি তাদের দায়িত্ব সেই মাসে মাসে কিছু টাকা পাঠানোর মধ্যেই শেষ। এতো বড় বাড়িটাতে একাই থাকতেন তিনি। শেষ বয়সে এসে একাকিত্ব তাকে কুঁড়ে কুঁড়ে খাচ্ছিলো। ঢাকা শহরে আজকাল কাজের মেয়ে পাওয়া দুষ্কর। তার উপর তিনি একা মানুষ,কাউকে দিয়ে খোঁজ নিবেন সেই উপায়ও নেই।
কিন্তু দুই মাস আগে এই মেয়েটা হঠাৎ তার দড়জায় এসে নিজ থেকে কাজ খুঁজে। মেয়ের বয়স অল্প,ভারী মিষ্টি দেখতে,নম্র আচরণ,তাছাড়া তার মায়ের অসুস্থতার কথা জানার পর তার মন সেখানেই গলে যায়। তিনি মেয়েটাকে তৎক্ষণাৎ কাজে রেখে দেন। শুরুর বেশ কয়দিন ভালোই ছিলো সবকিছু। দুবেলার রান্না ছাড়া বাড়িতে তেমন কাজ নেই,মেয়েটা রান্না করে দিয়ে তার সাথে গল্প করতো,তারপর ফিরে যেতো।
কিন্তু হঠাৎ সে সেদিন রাতে এসে হাজির হয়। মুখ ওড়না দিয়ে ঢাকা,জামায় র'ক্তের দাগ। তিনি প্রথমে ভেবেছিলেন হয়তো মেয়েটার সাথেই খারাপ কিছু হয়েছে,তাই তিনি কিছু না ভেবেই তাকে ভেতরে ঢুকিয়েছিলেন। কিন্তু সেটা তার জীবনের সবচেয়ে বড় ভুল হয়ে দাঁড়াবে কে জানতো? এই মেয়ে তাকে নিজের ঘরেই হাত পা বেঁধে বন্দী করে রেখেছে আজ দুই মাস। খাওয়া আর বাথরুমে যাওয়ার সময় হাত খুলে দেওয়া হয়,কিন্তু মেয়েটা তার হাতে চাকু নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে সেই সময়। মেয়েটা বাড়িতেই থাকে সবসময়,বাইরে বের হলে তার বোরকা পড়ে বের হয় খাবার কিনতে,তার টাকা তার বাড়ি সে নিজের মতো ব্যবহার করছে। তিনি কারো কাছে সাহায্য চাইবেন সেই সুযোগ ই নেই। তার খোঁজ নিতেও কেউ আসেনা। নিজের অসহায়ত্বের কথা চিন্তা করে বিলাপ করা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই তার কাছে।
মেঘলা ড্রয়িং রুম থেকে টিভির ভলিউম বাড়িয়ে দিতে দিতে ধমকে উঠে তাকে উদ্দেশ্য করে,
"ওই বুড়ি! এই ভর সন্ধ্যেবেলায় ম'রাকান্না জুড়ে দিয়েছিস কেনো?কিসের এতো দুঃখ তোর?তোকে কি আমি খেতে দিইনা নাকি?আরেকটা শব্দ আসলে কিন্তু আবার ঘুমের ওষুধ দিবো তোকযে,খাবি নাকি?"
সালেহা বানু সাথে সাথে চুপ করে যান। এই মেয়েকে সে জমের মতো ভয় পায়। এতদিনে সে এতটুকু বুঝে গেছে যে এই মেয়ে স্বাভাবিক নয়। বদ্ধ উন্মাদ সে,তার ভাবনাচিন্তা বাস্তবতার ধার ধরে না। তাকে মা'রতে তার একটুও হাত কাঁপবে না। মৃ'ত্যুভয় কার না আছে?তাই তিনি তার হতাশা গিলে চুপ করে যান।
মেঘলা কোনো শব্দ না পেয়ে আবার টিভি দেখায় মনোযোগ দেয়। কিন্তু মুডটাই নষ্ট হয়ে গেছে তার। বিরক্ত হয়ে সে টিভির রিমোট টাই ছুড়ে মারে। নিজের মাথার চুল খামছে ধরে রেগেমেগে স্বগতোক্তি করে সে,
"সবগুলো অপদার্থের দল। সব প্ল্যান বানচাল করে দিয়ে আমাকে ফাঁসিয়ে দিলো। এতক্ষণে আমার শুভ্রর বাহুডোরে থাকার কথা,কিন্তু এখন তার থেকেই লুকিয়ে বাঁচতে হচ্ছে। সব ওই রায়হানের জন্য। ফুলপ্রুফ প্ল্যান ছিলো,যেখানে সেও খুশি আমিও খুশি। শা'লার মেরুদণ্ড নেই,আমার সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করার চেষ্টা করে,তাই আমার তাকে খু'ন করতে গিয়ে খু'নের মামলায় ফেঁসে যেতে হয়েছে। তার উপর কুয়াশার একটা পার্মানেন্ট ব্যবস্থা করার আগেই কোথা থেকে পুলিশের গাড়ি এসে হাজির হয়। আমি পালিয়ে আসলেও ওই বাকি অপদার্থ দুটো ধরা পড়ে আমাকে ফাঁসিয়ে দিয়েছে। এভাবে আর কতদিন?আর কতদিন এভাবে লুকিয়ে থাকতে হবে আমার?"
মেঘলা বিচলিত হয়ে দাঁত দিয়ে নখ খুঁটছে। সে অতিষ্ঠ এই চার দেয়ালের ভেতর লুকিয়ে থাকতে থাকতে। ভেবেছিলো কেইস কয়দিন পর ঠান্ডা হয়ে যাবে। শুভ্রও কুয়াশাকে আস্তে আস্তে ভুলে যাবে,তখন সে আত্মগোপন থেকে বেরিয়ে আসবে। তার বিরুদ্ধে পাকাপোক্ত কোনো প্রমাণ নেই। মার্ডার ওয়েপন সে নষ্ট করে দিয়েছে, কুয়াশাও প্রায় মৃ'ত এখন তাই ওর পক্ষে সাক্ষী দেওয়া অসম্ভব। কোনো কল রেকর্ড নেই, ওই গুন্ডা দুজনের সাক্ষী তাকে আটকে রাখতে পারবে না। কিন্তু শুভ্র দুই মাস পরেও কেসটা ঠান্ডা হতে দিচ্ছে না কোনোমতে। সারা শহরে তার পোস্টার লাগানো,মোটা অঙ্কের পুরস্কার ও রেখেছে তাকে ধরিয়ে দেওয়ার উপর। এভাবে আর কতদিন লুকিয়ে বাঁচতে পারবে সে?
মনোযোগ অন্যদিকে সরাতে সে ফোন হাতে নিলো। এই বুড়িটার ফোন সে ব্যবহার করছে আপাতত। ফেসবুকে ঢুকেই সে প্রথমে শুভ্রর আইডিতে যায়। ওর ছবিগুলো বারবার দেখতে অনেক ভালো লাগে তার,মনোবল বাড়ে তার মনে। শান্তি লাগে এটা ভেবে যে,সে এতকিছু এই মানুষটার প্রতি ভালোবাসা থেকে করছে। একদিন সে তার পুরষ্কার পাবেই। কিন্তু আজকে সেটাও তার অশান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
শুভ্রর আইডি তে নতুন একটা পোস্ট ঝুলছে। কুয়াশা হাসিমুখে হাসপাতালের বেডে শুয়ে আছে,শুভ্র কুয়াশার বেডের পাশে বসে আছে হাসিমুখে। আরেকটা ছবি ওর ওয়ার্ডের বাইরে,কুয়াশা হুইল চেয়ারে বসে আছে,শুভ্র হুইলচেয়ার ধরে আছে। ক্যাপশনে লেখা,
"আলহামদুলিল্লাহ,আমার প্রিয়তমার জ্ঞান ফিরেছে। ডাক্তার বলেছেন খুব দ্রুত সে আগের মতো সুস্থ হয়ে যাবে। আমাদের ভবিষ্যৎ জীবনের জন্য দোয়া করবেন "
মেঘলা সাথে সাথে ফোনটা ছুড়ে মারে। উন্মাদের ন্যায় চিতকার করতে করতে হাতের কাছে যা আসে তাই ছুঁড়ে ফেলতে থাকে সে। রাগে,দুঃখে,হতাশায় চোখে অন্ধকার দেখছে সে। সালেহা বানু এসব দেখে ভয়ে আরও কুঁকড়ে উঠছেন। এই মেয়ে আরও ভয়ংকর হয়ে উঠেছে। শ্বাস নিতেও ভয় লাগছে তার।
মেঘলা হতাশ তার জীবনের প্রতি। এতদিন লুকিয়ে বাঁচতে হলেও মনে মনে একটা শান্তি ছিলো তার। আর সেটা হলো, অন্তত কুয়াশাকে সে তার আর শুভ্রর জীবন থেকে সরিয়ে দিতে পেরেছে। অন্তত কুয়াশা শুভ্রকে পায়নি। কিন্তু কুয়াশা আবার ফিরে এসেছে। সে সুস্থ,শুভ্র এখনো তার কাছেই আছে। আর সে? তাকে এখনো পুলিশ খুঁজছে,খু'নের দায়ে তাকে জেলে যেতে হবে। কুয়াশা এখন তার বিরুদ্ধে সাক্ষী দিয়ে তাকে জেলে পাঠাবে,আর নিজে তার শুভ্রর সাথে সুখের সংসার করবে।
"না! এটা হতে পারেনা! ও এখনো বেঁচে আছে কিভাবে?ও বেঁচে থাকতে পারেনা! ও বাঁচলে আমি শেষ হয়ে যাবো। ওকে ম'রতে হবে...ম'রতে হবেই..."
___________________
শুভ্র সেই তখন থেকে নার্ভাস হয়ে কুয়াশার কেবিনে এদিক সেদিক পায়চারি করছে। কুয়াশা বেডে হেলান দিয়ে শুয়ে শুয়ে ওর কান্ড দেখছে। সে এবার বিরক্ত হয়ে বললো,
"এতটা হাইপার হচ্ছো কেনো?তোমাকে দেখে আমার নিজেরও টেনশন টেনশন লাগছে এবার। একটু শান্ত হও"
শুভ্র হাঁটা থামিয়ে চোখমুখ শক্ত করে বললো,
"শান্ত হবো? মেঘলা তোমাকে যেকোনো সময় এটাক করতে পারে। আর তুমি আমাকে শান্ত হতে বলছো। তুমি এখনো পুরোপুরি সুস্থ নও। এই সময় এতো বড় রিস্ক নেওয়া কি ঠিক হচ্ছে?"
কুয়াশা ওকে আবার বোঝানোর চেষ্টা করলো,
"এটাই একমাত্র উপায় ওকে সুস্থ শরীরে বন্দী করার শুভ্র। আমি কি বলেছি শুনেন নি? আমাদের কারো হাতে মেঘলার মৃ'ত্যু হওয়া উচিত নয়,তাহলে সে আবার উল্টোপাল্টা কোনো উইশ করে বসতে পারে। এতদূর এসে আমি আবার ফিরে যেতে চাইনা স্টার্টিং লাইনে। এই স্টোরিটার একটা এন্ডিং হওয়া প্রয়োজন। গল্পের নায়িকা হিসেবে মেঘলার স্বাভাবিক নিয়মে মৃ'ত্যু হতে হবে অথবা ওর এমন অবস্থায় মৃ'ত্যুবরণ করতে হবে যেখানে সে শেষ মুহুর্তে মৃ'ত্যু ছাড়া কিছুই আশা করবে না। এখন মেঘলার মতো মেয়ে নিজ থেকে সুইসাইড করবে সেই আশা রাখাটা বোকামি। কিন্তু আমরা ওকে মার্ডার কেইসে কারাগারে বন্দী রাখতে পারি। এটাই একমাত্র সমাধান। তাই ওকে ধরার জন্য এটুকু রিস্ক নিতেই হবে আমাকে। ওর মানসিক অবস্থা আমি বেশ ভালো বুঝতে পারছি এই মুহুর্তে। ওই পোস্টটা দেখার পর সে আমাকে মা'রতে আসবেই"
শুভ্র আঁতকে উঠে কুয়াশার কথা শুনে,খানিকটা রাগী গলায় বলে সে,
"তুমি নিজের মৃ'ত্যুর কথা এমন সহজে কেনো বলো কুয়াশা?নিজের জীবন নিয়ে একটু ভয় থাকা দরকার তোমার,সবে তুমি মৃ'ত্যুকে পাশ কাটিয়ে এসেছো। আমার এই প্ল্যানটার উপর ভরসা নেই।এমনো হতে পারে ও নিজে না এসে অন্য কাউকে পাঠালো তোমার ক্ষতি করতে,যেভাবে ও সবসময় আরেকজনকে দিয়ে নিজের কাজ করিয়ে নেয়। দেখা গেলো ওর কিছুই হলো না সবসময়ের মতো কিন্তু তোমার ক্ষতি হলো"
"এমন কিছুই হবে না এইবার। ও এখনো জানেনা আমার এক সপ্তাহ আগেই জ্ঞান ফিরেছে। ও ভাবছে আজকেই জ্ঞান ফিরেছে আমার। ওর সবচেয়ে বড় ভয় হলো আমি পুলিশকে নিজের স্টেটমেন্ট দিয়ে দিবো। ও সেটা চাইবেনা শুভ্র। কাউকে হায়ার করতে গেলেও সময়ের প্রয়োজন হয়,ও এখন যেই সিচুয়েশনে আছে,সেখানে সে সময়ের রিস্ক নিবে না। ও নিজে আসবে,আর আমার মন বলছে ও আজকেই আসবে",কুয়াশা শুভ্রকে আশ্বাস দেওয়ার চেষ্টা করলো।
" আর পুলিশ তো থাকবেই সিসিটিভি থেকে সবকিছু মনিটর করার জন্য,ভয় কিসের?"
'তুমি বুঝোনা কেনো? তোমার সাথে ও যেটা চায় সেটাই ঘটে,আমি তুমি মিলেও সেটা আটকাতে পারিনা। আমার খুব ভয় হয় কুয়াশা। আমি একবার তোমাকে প্রায় হারিয়ে ফেলেছি,আমি আরেকবার সেই পরিস্থিতি দিয়ে যেতে চাইনা', শুভ্র ভগ্নহৃদয় নিয়ে ভাবলো মনে মনে। কিন্তু কুয়াশাকে বললো না সেই কথা। কারণ সে জানে কুয়াশা বুঝবে না সেই কথা। ওর নিজের প্রাণ নিয়ে কোনো চিন্তা নেই।
"দশটা বেজে গেছে শুভ্র,আপনার এবার যাওয়া উচিত। ও আপনাদের কাউকে হাসপাতালে দেখলে আসবে না আমার কাছে। আপনার যেতে হবে",কুয়াশা সময় দেখে তাগাদা দিলো শুভ্রকে।
শুভ্র কুয়াশার পাশে বসে ওর হাত শক্ত করে ধরে ওর কপালে আলতো ঠোঁটের স্পর্শ করলো,তারপর কাতর গলায় মিনতি করলো,
"আরেকবার ভেবে নাও প্লিজ?এখনো সময় আছে পিছিয়ে আসার..."
"শুভ্র,আমি আমার সিদ্ধান্তে অটল। আমার মন বলছে সব ঠিক হয়ে যাবে আজকের পর", কুয়াশা চোখেমুখে আত্মবিশ্বাস ফুটিয়ে তুলে বললো।
শুভ্রর এবার বেশ রাগ হতে লাগলো,এই মেয়েটা একবারও ওর কথা মানতে চায়না কেনো?কি হবে একবার যদি সে তার কথা শুনে?তার চোখ জ্বলে উঠে গত দুইমাসের কথা মনে পড়তেই,
"যা খুশি করো যাও!"
শুভ্র রেগেমেগে হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে আসে। কুয়াশার জেদের সামনে সবসময় তাকে হার মানতে হয়। হাসপাতাল থেকে চলনসই একটা দূরত্ব অতিক্রম করে গাড়ি থামিয়ে দেয় সে। তার বাবার পরিচিত পুলিশ অফিসারের আন্ডারে আজকের অপারেশনটা কার্যকর হচ্ছে। তিন তলার করিডরে দুইজন সিভিল ড্রেসে পুলিশ আছে অন্য রোগীর আত্মীয়ের ছদ্মবেশে যাতে কিছু হলেই চার তলায় পৌছাতে পারে তারা,দুইজন কন্ট্রোল রুমে সিসিটিভি ফুটেজ এর উপর লক্ষ্য রাখছে। সে ফোন করে আবার চেক করলো সব স্বাভাবিক নাকি সেখানে। অপর প্রান্তের পুলিশ অফিসার উত্তর দিলো,
"সবকিছু এখনো স্বাভাবিক মিস্টার শুভ্র। কোনো সন্দেহজনক মুভমেন্ট চোখে পড়েনি করিডরে বা রুমের ভেতর। মিস কুয়াশা ঘুমিয়ে পড়েছেন"
সব স্বাভাবিক। কিন্তু শুভ্রর মনটা এখনো খচখচ করছে। বারবার মনে কু ডাক দিচ্ছে। কোনো ভাবেই সে নিশ্চিন্ত হতে পারছেনা। সে পুলিশ অফিসারকে ইতস্ততভাবে বললো,
"আপনার কোনো সমস্যা না থাকলে আমি কি এভাবেই লাইনে থাকতে পারি?প্লিজ ফোন কাটবেন না যদি সম্ভব হয়"
পুলিশ অফিসার বেশ খানিকক্ষণ নীরব রইলেন। তিনি কন্ঠ শুনে উপলব্ধি করতে পারছেন ছেলেটার উৎকন্ঠা। কেনো যেনো ফেলতে পারলেন না তিনি ছেলেটার আকুতি,
"ঠিক আছে,তবে আমি আপনার সাথে পুরোটা সময় কথা বলতে পারবো না"
শুভ্র স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে বললো,
"সমস্যা নেই,এটুকু যথেষ্ট। থ্যাংক ইউ"
এটুকু অন্তত কোনো কিছু না থাকার চাইতে ভালো। অন্তত ওখানে কোনো গন্ডগোলের শব্দ না হলে সে বুঝতে পারবে যে কুয়াশা সুস্থ আছে।
রাত একটা ছুঁই ছুঁই। শুভ্র ফোনটা কানে লাগিয়ে রেখেছে। নীরবে অপর প্রান্তের কথাবার্তা শুনে পরিস্থিতি বোঝার চেষ্টা করছে। এখন পর্যন্ত সব স্বাভাবিক। দিনের আলো ফুটতে আর কয়েক ঘন্টা। বাকি সময়টাও যেনো এভাবেই কেটে যায়। সে মনে মনে দোয়া করতে লাগলো।
কিন্তু বিপদকে যেখানে নিজেরাই আমন্ত্রণ জানিয়ে রেখেছে সেখানে শান্তির আশা রাখাটাই বোকামি। রাত দেড়টা পেরোতেই ফোনের অপর প্রান্তে হঠাৎ হইচই এর শব্দ শুনে শুভ্র সজাগ হয়ে উঠে৷ তড়িঘড়ি করে চিতকার করে উঠে যাতে অপর প্রান্তে তার গলা শোনা যায়,
"কি হয়েছে ওখানে?এতো চেঁচামেচি কিসের?"
অপর প্রান্ত থেকে খানিকক্ষণ বাদে ব্যস্ত কন্ঠে বললো অফিসার,
"ব্ল্যাক আউট মিস্টার শুভ্র। হঠাৎ করে পুরো হাসপাতালের বিদ্যুৎ চলে গেছে তাই সিসিটিভি ভালোভাবে বোঝা যাচ্ছে না। আমরা দেখছি"
অপর প্রান্ত থেকে ফোনের লাইনটা কেটে যায় এরপর।
এদিকে শুভ্র আতঙ্কে ফ্যাকাসে হয়ে উঠেছে। ওর মনেও নেই কখন সে তার গাড়ি চালাতে শুরু করেছে। ফুল স্পিডে গাড়ী চালিয়ে সে হাসপাতালে পৌছায়। বিদ্যুৎ সংযোগ এখনো বিচ্ছিন্ন,পুরো হাসপাতাল অন্ধকার। জেনারেটর অজ্ঞাত কারণে চালু করা হয়নি। লিফট বন্ধ। শুভ্র সিড়ি বেয়ে চার তলায় কুয়াশার রুমের কাছে পৌছায়। বাইরে সেখানে একটা জটলা জমে গেছে ইতোমধ্যে। সবাই জোর গলায় কিসব আলোচনা করছে,সেগুলো তার কানে যাচ্ছে না।
সে ভীড় ঠেলে ভেতরে যেতেই টর্চের আলোয় যা দেখলো তাতে তার হৃদপিণ্ড সেখানেই থমকে যায় যেনো।
হাসপাতালের বেড,ফ্লোরে বিভিন্ন জায়গায় ছোপ ছোপ র'ক্ত। কুয়াশা কোথাও নেই।
(চলবে)
আপনাকে অনেক ধন্যবাদ খলনায়িকা | পর্ব - ৩৩ | ভালোবাসার রোমান্টিক উপন্যাস | ভালোবাসার গল্প | Aduri Pakhi - আদুরি পাখি এই পোস্ট টি পড়ার জন্য। আপনাদের পছন্দের সব কিছু পেতে আমাদের সাথেই থাকবেন।
