#অ্যারেঞ্জ_ম্যারেজ
#অবন্তিকা_তৃপ্তি
#পর্ব_৯
আফরোজার কথামতো তুলি চা বানালো শুভ্রর জন্যে। চা কাপে ঢেলে নিয়ে যাবে, হঠাৎ আফরোজা থামালেন। বললেন,
‘তুলি দাঁড়া তো। তোর মধ্যে কিছু একটা মিসিং। আমি বুঝতে পারছি কি। আমি নিয়ে আসছি ঘর থেকে।’
তুলি চায়ের কাপ হাতে নিয়ে বোকা বোকা চেহারায় মাথা দুলালো। আফরোজা গেলেন আর এলেন। হাতে করে নিয়ে এলেন এক পাতা টিপ। তুলি টিপ দেখেই অবাক হল। টিপ শাড়ির সঙ্গে তো সবসময়ই পরে তুলি। আজ একদম মনে ছিলো না। কোথায় ছিলো মন? অবশ্য ইদানিং তুলির মন একটু খুইয়ে খুইয়ে থাকে। কেমন যেন একটা অদ্ভুত অনুভুতি হয় মনের মধ্যে। একটু অন্যরকম অদ্ভুত অনুভূতি।
আফরোজা একটা টিপ খুলে তুলির দুই ভ্রূয়ের মাঝখানে সেঁটে দিলেন। মিষ্টি হেসে বললেন,
‘শাড়ির সঙ্গে টিপ না হলে জমেই না। জানিস তুলি, এই টিপের পাতা অনেক পুরনো। আমার যৌবন কালে টিপের অনেক শখ ছিলো। শুভ্রর বাবা তো পাতার পর পাতা এনে রেখে দিত বাসায়। আমি প্রতিদিন শাড়ির সঙ্গে মিলিয়ে পরতাম। এখন আর পরি না। শুভ্রর বাবা নেই, কাকে দেখাব পরে? তবে তোর তো শুভ্র আছে। আমার এখান থেকে টিপ নিয়ে নিয়ে পরবি আর পরে শুভ্রকে দেখাবি। তারপর শুভ্রর বাবার মতো শুভ্রও তোর জন্যে পাতার পর পাতা টিপ এনে রাখবে।একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি।হা হা হা!’
তুলির চোখ জলে ছলছল করে উঠল। তাদের দুজনের সর্ম্পক যেমনই হোক। অন্তত এই মায়ের জন্যে তুলির বোধকরি শুভ্রকে বিয়ে করে ভুল করেনি। মানুষটা মারাত্মক আকৃষ্ট তার সন্তানের প্রতি, তেমনই তুলির প্রতি। তুলি মৃদু হাসলো। টিপটা আলতো করে ছুয়ে দিয়ে বললো,
‘চা ঠান্ডা হচ্ছে আম্মু। যাই?’
‘ওহ হা। যা যা।’
তুলি হেসে চা নিয়ে শুভ্রর রুমে গেল। শুভ্র মাত্র গোসল সেরে বেরিয়েছে। টাওয়াল সোফার উপর ফেলে রাখা। ভিজে টাওয়াল এভাবে ফেলে রেখেছেন? তুলি শুভ্রর মনযোগ আকর্ষন করার জন্য চায়ের কাপে শব্দ তুললো। শুভ্র তখন পেছনে ফিরলো। চা হাতে তুলি দাঁড়িয়ে আছে দেখে শুভ্র সঙ্গেসঙ্গে ভেতরে আসতে বললো। তুলি ভেতরে ঢুকলো। শুভ্র হাত বাড়াল। তুলি চায়ের কাপ শুভ্রর হাতে ধরালো। শুভ্র চায়ে চুমুক দিয়ে সোফায় বসলো। তুলি খানিক এগিয়ে এসে সোফা থেকে ভিজে তাওয়াল তুলে বারান্দায় মেলতে গেলো। শুভ্র চা খেতে খেতে দেখলো এসব। মনেমনে আবারও একটু করে তুলির জন্যে ভালো লাগা জন্মাল। তুলি বারান্দা থেকে ভেতরে ঢুকলে, শুভ্র ডাকলো,
‘তুলি?’
তুলি জবাব দেয়,
‘বলুন।’
শুভ্র মৃদু হেসে বলল,
‘এখনই সংসার গোছানোর এত ইচ্ছে?’
তুলি বুঝতে পারলো না শুভ্রর কথার অর্থ। তুলি প্রশ্ন করল,
‘সংসার গোছাচ্ছি?’
‘হু? নেক্সট টাইম থেকে ভিজে টাওয়াল আর ফেলে রাখব না। নিজেই বারান্দায় মেলে আসব। হবে না?’
শুভ্রর কথার অর্থ এখন বুঝল তুলি। সঙ্গেসঙ্গে লজ্জা পেয়ে গেলো। আড়ষ্ট ভঙ্গিতে বললো,
‘তেমন কিছু না। অভ্যাস নেই এভাবে। সোফা ভিজে যাবে দেখে-‘
‘ইটস ওকে। কৈফিয়ত কেন দিচ্ছ? এ ঘর তোমারই।’
তুলির কথাটা কী যে ভালো লাগলো, বলা অসম্ভব। দু চোখে কেবল শুভ্রর দিকে চেয়ে রইল। শুভ্র চা শেষ করলো। চায়ের কাপ টি টেবিলের উপর রেখে এগিয়ে এলো তুলির দিকে। শুভ্রর এগিয়ে আসা তুলি দেখল। অথচ আশ্চর্যজনকভাবে তুলি এবার এক পা-ও পেছাল না। স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে রইল নিজের জায়গায়। শুভ্র এগিয়ে এসে মুখোমুখি হলো তুলির। গাঢ় চোখে তুলির দিকে চেয়ে বললো,
‘ডু ইউ মাইন্ড, ইফ-‘
পুরো কথাটা শেষ করতে পারলো না শুভ্র। তার আগেই তুলি মুখ ফঁসকে বলে ফেললো,
‘নো-‘
শুভ্র অবাক হলো। বড়বড় চোখে তুলির দিকে চেয়ে তারপর হেসে ফেললো। কী অধৈর্য্য মেয়েটা! শুভ্র মুখ এগিয়ে আনলো। তুলির বুকের ভেতরটা ডিপডিপ করছে। চোখ আবেশে বুজে যাচ্ছে বারবার। শুভ্র মুখ সরাল আচমকা। হাত উঁচু করে তুলির দু ভ্রুয়ের মাঝখানে আঙুল চাপলো। তুলি সঙ্গেসঙ্গে চোখ বুজে ফেলল। শুভ্র তুলির টিপ সোজা করে দিলো। তুলি অবাক হয়ে চোখ খুললো। শুভ্র হালকা হেসে সরে দাঁড়ালো। তুলি ফ্যালফ্যাল চোখে শুভ্রর দিকে চেয়ে আছে। শুভ্র মৃদু হেসে বললো,
‘টিপ সোজা করে পড়বে। বাঁকা করলেও সমস্যা নেই, এই শুভ্র স্কেল দিয়ে মেপে সোজা করে দেওয়ার জন্যে আছে।’
তুলি কিছুক্ষণ শুভ্রর দিকে এভাবেই চেয়ে রইল। শুভ্রও তাকালো। পরপর তুলির হুশ ফিরলে দৌঁড়ে ঘর থেকে ছুটে পালালো। দরজার ওপাশে এসে দরজার হাতলে হাত রেখে জোরেজোরে শ্বাস ফেলতে লাগলো। শুভ্র বোধহয় তুলিকে শ্বাসকষ্ট দিয়েই মেরে ফেলবে। এমন ভাবে কথা বলে যে, তুলির দুনিয়া এফোর-ওফোঁর হয়ে যায়।
হঠাৎ দরজার ওপাশ থেকে শুভ্র বলে উঠে,
‘আমি তোমায় দেখতে পাচ্ছি তুলি। ইউর হাইড এন্ড সিক গেইম ইজ নট ওয়ার্কিং।’
শুভ্রর আচমকা কথায় তুলির অনুভূতি ছিটকে বের হলো। ‘আল্লাহগো’ বলে তুলি দরজার হাতল ছেড়ে দিলো। শুভ্র ওপাশ থেকে হেসে উঠল শব্দ করে।
__________________
‘না রে হবে না এবার ট্যুর। তোরা যা।’
ডাক্তার ফারহান কাকুতির স্বরে বললো,
‘ভাই ট্যুর দেওয়া লাগবেই এবার। বউ নাহলে আর খাটে জায়গা দিবে না। চল না।’
শুভ্র মাথার চুল ব্যাকব্রাশ করতে করতে বললো,
‘তাহলে বউকে নিয়ে যা। আমাকে টানিস কেন?’
‘আরিফও যাচ্ছে কিম্তু বউ নিয়ে। তাহলে তুই বাদ যাবি কেন? ফ্যামিলি ট্যুর হয়ে যাবে, চল।’
শুভ্র আবার মানা করতে যাবে। হঠাৎ কিছু একটা ভাবলো সে। তুলির তো কয়েকদিন বন্ধ আছে সামনে পূজার জন্যে। শুভ্রর ছুটি। তুলিকে নিয়ে একটা প্ল্যান করাই যেতে পারে। সেটা হলে দুজন দুজনকে জানা ব্যাপারটা আরও ইজি হবে। তুলিরও জড়তা কাটবে, সঙ্গে শুভ্ররও। ওদের জন্যে এই ট্যুরটা হওয়া দরকার। শুভ্র তাই বললো,
‘আমি জেনে জানাচ্ছি। তোকে কালকে জানাব আমি।’
‘ওকে, জানাস কিন্তু।’
শুভ্র ফোন কেটে ল্যাপটপের স্যাটার বন্ধ করে উঠে দাঁড়াল। টিশার্ট টেনেটুনে ঠিক করে বসার ঘরের দিকে এগুলো। বসার ঘরে যেতেই কানে গেল সিরিয়ালের শব্দ। শুভ্র বেশি একটা অবাক হলো না। তার আম্মু সিরিয়াল দেখেন, শুভ্র এতেই অভ্যস্ত। কিন্তু আম্মুর সঙ্গে তাল মিলিয়ে এ যুগে এসেও তুলিও যে সিরিয়াল দেখে সেটা শুভ্রর কাছে অবিশ্বাস্য মনে হলো।
শুভ্র গিয়ে ওদের সামনে গিয়ে হুট করে টিভি অফ করে দিল। সঙ্গেসঙ্গে তুলি আর আফরোজা চেঁচিয়ে উঠলেন একসঙ্গে,
‘টিভি বন্ধ করলে কেন?’
শুভ্র থমকে গেলো। পরপর বললো,
‘না, সিরিয়াল দেখা কিসের তোমাদের, হ্যাঁ? এসব দেখ আর সারাদিন এসব মানুষের উপর অ্যাপ্লাই করতে থাকো, অসম্ভব। আম্মু তুমি দেখছ, সঙ্গে তুলিকেও দেখাচ্ছ।’
তুলি মিনমিন করে বললো,
‘আমিই সিরিয়াল দেখার জন্যে টিভি অন করেছিলাম। রিপিট টেলিকাস্ট দেখিনি আমি সকালে।’
শুভ্র হতভম্ব। বললো,
‘ওয়াও। তাহলে তো বিরাট লস হয়ে গেলো তোমার। রিপিট টেলিকাস্ট দেখো নি। একটা দেবো ধরে।সিরিয়াল হচ্ছে গার্বেজ, এসব মানুষ দেখে?’
তুলি আর আফরোজা দুজন এবার একসঙ্গে বলে উঠলেন,
‘কিম্তু আমরা তো দেখি, আমরা মানুষ না?’
শুভ্র দুজনের কথায় কথা বলার ভাষা হারিয়ে ফেললো। নিজেকে সামলে বললো,
‘আমার ভুল হয়ে গেছে। মাফ করেন আমাকে।
যেটার জন্যে এসেছিলাম। তুলি, একটু রুমে আসো তো। কথা আছে তোমার সঙ্গে।’
#চলবে............
#অ্যারেঞ্জ_ম্যারেজ
#অবন্তিকা_তৃপ্তি
#পর্ব_১০
শুভ্র বললো,
‘তুলি, একটু রুমে আসো তো। কথা আছে তোমার সঙ্গে।’
শুভ্রর আচমকা কথায় আফরোজা এবং তুলি দুজনেই অবাক। আফরোজা বেশ খুশি হলেন যেমন। মৃদু হেসে সোফার হাতলে হেলান দিয়ে বেশ আরাম করে বসলেন। তুলি আড়চোখে আফরোজার দিকে চাইলো। আফরোজা এভাবে তাদের দুজনের দিকে চেয়ে আছেন দেখে তুলি কাতর চোখে আবার শুভ্রর দিকে তাকাল। শুভ্র তুলির তাকানোর অর্থ ধরতে পারলো না প্রথমে। পরবর্তীতে তুলি ইশারায় আফরোজার হাসিহাসি মুখ দেখিয়ে দিলে শুভ্র মায়ের দিকে চেয়ে বুঝতে পেরে কেশে উঠলো। বোকার মতো হাসার চেষ্টা করে বললো,
‘আম্মু, ওই বলছিলাম তুলি ট্যুরে-‘
শুভ্র থামলো। আর বলা লাগল না তার। আফরোজা সোজা হয়ে বসলেন। তুলির দিকে চেয়ে গম্ভীর গলায় বললেন,
‘তুলি শুভ্রর ঘরের বিছানার চাদরটা ময়লা হয়ে গেছে। এখন গিয়ে চাদরটা উঠিয়ে বিনে রেখে দে তো, বুয়া এসে ধুয়ে দিবে।’
তুলি শুনলো। মনেমনে হাসলো। কী সুন্দর বাহানা! শুভ্র লজ্জা পেলো। মায়ের সামনে শুভ্রর তুলিকে এভাবে ডাকা উচিত হয়নি, বুঝতে পারলো সে। নত মুখে মাথা চুলকে নিজের ঘরে চলে গেলো। তুলিও গেলো কিছুসময় পর। দুজন যেতেই আফরোজা আবার টিভি চালালেন।
তুলি শুভ্রর ঘরের দরজায় টোকা দিলো,
‘আসব?’
শুভ্র ঘরের ভেতরে পায়চারি করছিল। তুলির আওয়াজ শুনতেই হাঁটা থামিয়ে চটজলদি বললো,
‘এসো, এসো।’
তুলি মাথায় শাড়ির আঁচল তুলে ভেতরে ঢুকলো। শুভ্র তুলিকে দেখেই অপ্রস্তুত গলায় প্রশ্ন করলো,
‘সরি, আসলে আম্মু সামনে ছিলো আমার মাথায় ছিল না।ব্যাপারটার জন্যে আম সরি। নেক্সট টাইম খেয়াল রাখবো।’
তুলি মৃদু হেসে মাথা নাড়লো। তুলি ভেবেছিল, শুভ্র হয়তো ব্যাপারটা হেসে উড়িয়ে দিবে। তথাকথিত ঠোঁটকাটা পুরুষের ন্যায় মায়ের সামনে এভাবে বলাকে স্বাভাবিক মনে করবে। কিন্তু শুভ্র তাকে ভুল প্রমাণিত করল। মায়ের সামনে শুভ্র বড্ড নম্র এবং ভদ্র। ঘরের ভেতরে স্বামী-স্ত্রী যেভাবেই থাকুক, কথা বলুক, একে ওপরের কাছাকাছি থাকুক, গুরুজনের সামনে সেসব প্রকাশ করা তুলির ব্যক্তিগতভাবে পছন্দ নয়। এটা যেমন তুলির পছব্দ নয়, তেমনি শুভ্ররও নয়। তুলির শুভ্রর এই ব্যাপারটা ভালো লাগলো ভীষণ।
তুলি বললো,
‘ঠিকাছে, প্রথম প্রথম ভুল হয়েই যায়। নেক্সট টাইম দুজনেই খেয়াল রাখবো।আচ্ছা বলেন এবার, কী বলতে ডেকেছিলেন?’
শুভ্র বললো,
‘ওহ, হ্যাঁ। তোমার পূজার বন্ধ কবে?’
তুলি অবাক হয়ে প্রশ্ন করলো,
‘কেন?’
‘কবে থেকে শুরু আর কবে অব্দি, আমাকে বলো।’
তুলি হাতে গুণে দেখলো। তারপর বললো,
‘শুরু হবে পরশু থেকে, ২৩ দিন থাকবে বন্ধ।’
‘ওয়াও, গ্রেট।’
শুভ্রকে খুশি হতে দেখা গেলো ভীষন। সব কেটেকূটে হাতে কমপক্ষে ২০ দিন তো থাকবে। ঘুরতে সর্বোচ্চ লাগবে এক সপ্তাহ। বাকিটা সময় তুলি পড়াশোনায় দিতে পারবে, আর শুভ্রর ছুটি মাত্র ১০ দিন। সবমিলিয়ে ট্যুর পরিকল্পনা করা যেতেই পারে।
শুভ্র এবার তার কথা তুললো,
‘তুলি, কোথাও বেড়াতে যেতে চাও এই বন্ধে, একা আমার সঙ্গে?’
তুলি রীতিমত চোখ বড়বড় করে চাইলো। শুভ্রর কথা বুঝতে তার বেশ সময় লেগে গেলো। যখন বুঝলো, লজ্জায় মিইয়ে গেলো। বিয়ের পর তাদের এভাবে ঘুরতে যাওয়াকে কী হানিমুন বলে আখ্যায়িত করবে তুলি? তুলি উত্তর করলো না, মাটির দিকে চেয়ে স্থির দাঁড়িয়ে রইল। শুভ্র বুঝতে পারলো না তুলির মতিগতি। শুভ্র ধীর পায়ে দু কদম এগিয়ে এসে বললো,
‘কী তুলি? যেতে চাওনা আমার সঙ্গে?’
তুলি অন্যদিকে চাইল। বুকটা আবার ডিপডিপ করছে। মনে হচ্ছে লজ্জায় কান দিয়ে গরম ধোঁয়া বের হচ্ছে। তুলি অন্যপাশে মুখ ঘুরিয়ে নিয়ে আস্তে করে বললো,
‘যাবো।’
শুভ্র তুলির সম্মতি শুনে খুব বেশি খুশি হয়েছে। শুভ্র বললো,
‘আমার বন্ধুরাও যাবে আমাদের সঙ্গে, তাদের ওয়াইফ নিয়ে। ওরা ওদের মতো ঘুরবে, আমরা আমাদের মতো। বাট যাবো একসঙ্গে। তুমি কনফোর্ট ফিল করবে?’
এই যে শুভ্র ‘আমরা-আমাদের’ এই শব্দগুলো বারবার ব্যবহার করছে, তুলির কানে যেন এই শব্দগুলো মধু ছিটাচ্ছে। কানে যে কী আরাম লাগছে, বলা অসম্ভব। তুলি আড়ষ্ট ভঙ্গিতে বললো,
‘আমার সমস্যা নেই। কিন্তু মা রাজি হবেন না এভাবে। উঠিয়ে দেওয়ার আগে এভাবে ঘুরতে যাওয়া-‘
শুভ্র মাথা দুলালো, ‘সেটাও এক কথা। আচ্ছা আমি দেখছি। আন্টি সরি মায়ের নাম্বার তোমার মুখস্ত আছে? আমাকে বল তো। আমি দেখি পারমিশন পাই কিনা।’
শুভ্র যেভাবে বলল, তুলির মনে হলো শুভ্র কোন ছোট বাচ্চা সঙ্গে করে নিয়ে যাচ্ছে। তার পারমিশন নিতে বাচ্চার অভিভাবকের কাছে ফোন দেওয়া হচ্ছে। তুলি হেসে ফেলল। শুভ্র হাসির শব্দে তাকালে, তুলি সঙ্গেসঙ্গে হাসি থামিয়ে ফেলল। শুভ্র ভ্রু কুঁচকে বললো,
‘নাম্বার?’
তুলি নাম্বার বললো। শুভ্র কল দিয়ে কানে ধরলো। ওপাশ থেকে ইয়াসমিন কল রিসিভ করলে শুভ্র সালাম দিলো। ইয়াসমিন শুভ্র কল দিয়েছে শুনে গদগদ হয়ে সালামের জবাব দিলেন। শুভ্র বললো,
‘আন্ট-মা একটা কথা ছিল আপনার সঙ্গে। বলব?’
‘হ্যাঁ বলো শুভ্র।’
শুভ্র তুলির দিকে তাকালো। তুলি উৎসুক চোখে শুভ্রর দিকে চেয়ে আছে। শুভ্র বললো,
‘আমার মেডিকেল থেকে ছুটি দিবে পূজায় ১০ দিনের জন্যে। তুলিরও ছুটি আছে। ভাবছিলাম, আমরা দুজন একটু ঘুরে আসি কোথাও থেকে, যদি আপনি অনুমতি দেন।’
স্বয়ং শুভ্র কল দিয়ে বলছে যাবে। ইয়াসমিন দ্বিধায় পড়ে গেলেন। এভাবে উঠিয়ে দেওয়ার আগে মেয়েকে ঘুরতে যেতে দেওয়া ভালো হবে? ইয়াসমিন বললেন,
‘আমি একবার তুলির বাবার সঙ্গে কথা বলে তোমাকে জানাচ্ছি শুভ্র।’
‘ওকে মা। রাখি?’
‘ওকে বাবা, রাখো।’
শুভ্র সালাম দিয়ে ফোন কাটলো। শুভ্র তুলির দিকে চেয়ে ভ্রু নাচিয়ে বললো,
‘কী মনে হয়, আঙ্কে-বাবা দিবেন?’
তুলি শুভ্রর বাবার ‘বাবা-মা’ এসব কথার মধ্যে আটকে যাওয়া দেখে হেসে ফেলে বললো,
‘কষ্ট হচ্ছে না, বাবা-মা ডাকতে?’
শুভ্র হাসলো বোকার মতো। মাথা চুলকে বললো,
‘সেরকম কিছু না। প্রথম প্রথম অভ্যাস নেই, ধীরে ধীরে ঠিক হয়ে যাবে।’
‘জানি, ট্রাই করছেন দেখেই আমার ভালো লাগছে।’
শুভ্র হালকা হাসলো। মিনিট পরেই শুভ্রর ফোনে কল দিলেন ইয়াসমিন। শুভ্র তাৎক্ষনিক কল রিসিভ করে সালাম করলো। ইয়াসমিন বললেন,
‘তোমরা কতদিনের জন্যে যাবে শুভ্র?’
‘এক সপ্তাহ।’
‘আচ্ছা যাও তাহলে। খেয়াল রাখবে দুজনের। কবে যাচ্ছ?’
‘পরশু।’
‘আচ্ছা।’
শুভ্র আরও টুকটাক কথা বলে ফোন কাটলো। তুলি শুভ্রর দিকে চাইলো। শুভ্র বললো,
‘রাজি তারা। তুমি আজ বাসায় গিয়ে ব্যাগপত্র গুছিয়ে নিও। আমিও আমার সব গুছিয়ে নিব। কিম্তু আম্মু? আম্মু কোথায় থাকবে? আগের বুয়া তো নেই এখন।’
‘আম্মুকে সাথে নিয়েই যাই। উনার ভালো লাগবে হয়তো।’
‘হ্যাঁ, এটাই করা লাগবে। আমি আম্মুকে বলে দেখছি। দেখি কী বলে?’
শুভ্র তুলিকে রুমে রেখে আফরোজার কাছে গেলো। আফরোজা শুভ্রর আসার আওয়াজ পেয়েই টিভি দ্রুত অফ করে দিলেন। শুভ্র মায়ের পাশে বসলো। আফরোজা বললেন,
‘কিছু বলবি?’
শুভ্র সরাসরি আদেশ করার ন্যায় বললো,
‘সাজেক যাচ্ছি আমি, তুলি আর তুমি, দ্রুত ব্যাগ গোছাও।’
আফরোজা বললেন,
‘তোদের সঙ্গে আমি কেনো যাবো? না না। তোরা যা।’
‘কেন? আমাদের সঙ্গে গেলে কী হয়? ভালো লাগবে তোমার। মেঘের শহর দেখেছ কখনও? খুব সুন্দর জানো?’
‘নারে। এতদূর আমার শরীর সইবে না। আর আমি গিয়ে এসেছি ওখানে তোর বাবার সঙ্গে। এতদূর আর যাওয়ার ইচ্ছে নেই।’
‘তাহলে কাছে কোথাও চলো।’
শুভ্র এতবার করে বলছে আফরোজা শুভ্রকে মানাতেই পারছেন না। নাছোড়বান্দার মতো করছে শুভ্র। তারপর আফরোজা হাল ছাড়লেন।শুভ্রর চুলে হাত বুলিয়ে বললেন,
‘শোন শুভ্র। এটা তোর আর তুলির একসঙ্গে কোথাও ঘুরতে যাওয়া। এই যাওয়াটা তোদের এখন কাজে লাগানো দরকার। দুজন দুজনকে বুঝবি, জানবি, চেনাজানা হবে। এটাই তো দরকার এখন। আমি তোর বাবার সঙ্গে গেছি, আমরাও একাই গেছি দুজন। তোদেরও তাই এখন একাই যাওয়া উচিত। আমি তোদের সঙ্গে যাবো। তবে এইবার না, আরেকবার। এবার তোরা যা। জেদ করিস না।’
শুভ্রর মন মানলো না। সে মায়ের নিরাপত্তার আশঙ্কায় বললো,
‘তুমি একা কিভাবে থাকবে, আম্মু? আগের বুয়া তো নেই এইবার।’
‘এক কাজ করি, আমি ইয়াসমিনের বাসায় এ কদিন ঘুরে আসি। ইয়াসমিন বারবার বলছিল গিয়ে ক-রাত থাকার জন্যে। এই সুযোগে থেকে আসি কদিন। তোরাও ঘুরে আয়। আমাদের তিনজনের সময়ই ভালো কাটবে এই এক সপ্তাহ তাহলে। আমারও এই ফাঁকে ইয়াসমিনের সঙ্গে সময় কাটানো হয়ে যাবে। কতকাল ইয়াসমিনের সঙ্গে মন খুলে কথা বলা হয়না, জানিস?’
শুভ্র মায়ের জোরাজরিতে রাজি হলো শেষ অব্দি। আফরোজা ছেলের কপালে চুমু খেয়ে বললেন,
‘ঘুরে আয় তোরা, ফিরবি মন খুশি করে। তুলি প্রথম তোর সঙ্গে যাবে, মেয়েটাকে এই বিয়ে, এই সম্পর্ক, আর এই তোকে নিয়ে ভাবতে বাধ্য করবি, ঠিকাছে?’
শুভ্র মৃদু হাসলো। লজ্জা পেয়ে মাথার পেছন চুলকে বললো,
‘আম্মু, তোমার না মোটিভেশোনাল স্পিকার হওয়া উচিত ছিল। প্রতিটা ভিডিওর টাইটেল থাকবে, কিভাবে ছেলেমেয়ের সংসার টিকিয়ে রাখা যায়। আম শিউর, এই প্রফেশনে তুমি খুব উন্নতি করতে পারতে।’
আফরোজা বাচ্চাদের ন্যায় হাসলেন। ছেলের হাতে হাত রেখে বললেন,
‘ছেলেরা যদি সংসারে পটু না হয়, তবে মায়েদের স্পিকারই হতে হয়। যা তো এবার, দ্রুত ব্যাগ গুছিয়ে নে।’
#চলবে........
#অ্যারেঞ্জ_ম্যারেজ
#অবন্তিকা_তৃপ্তি
#পর্ব_১১
তুলি বড্ড ঘুম কাতুরে। বেশি রাত জাগা তুলির পক্ষে কোনোদিন সম্ভব হয়নি। তুলি হচ্ছে ভোরের পাখি। পড়াশানা যা করার সব সকালেই করে। রাত মানেই তুলির কোলবালিশ নিয়ে আরাম করে ঘুম। গতকাল শুভ্রদের বাসা থেকে ফেরার পর আর আধা ঘণ্টাও চোখ খুলে রাখতে পারেনি তুলি। খাওয়া দাওয়া করে আসায় বাসায় এসেই দরজায় খিল তুলে ঘুমিয়ে পরেছে। সবে ঘুমিয়েছে ছ ঘণ্টা। আজও তেমন ঘুমাতে পারেনি। ছ ঘণ্টা পরপর টানা দুদিন ঘুমিয়ে তুলির তেমন আরাম মিলেনি। সাজেকের উদ্দেশ্যে ওদের বেরোনোর কথা সকাল ৭ টার মধ্যে। অথচ ৭:৩০ টায় তুলি এখনও ঘুম। ঘুমের মধ্যেই সকাল সকাল তুলির ফোনে কল এলো। ঘুমে কাতর তুলি বিরক্ত হয়ে মুখ কুচকালো। এদিক ফিরে শুতেই আবার কল এলো। বাধ্য হয়ে তুলি ফোন ধরলো। হ্যালো বললে, ওপাশ থেকে কারও ছোট্ট নিঃশ্বাস ফেলার শব্দ হল। নিঃশ্বাসের শব্দ শুভ্রর ছিলো। ঘুমন্ত তুলির কণ্ঠ তার ভীষণ ভালো লেগে গেলো। শুভ্র তৃষ্ণার্থ বোধ করে নীরব থাকলো। তুলি আরেকবার কথা বলুক, শুভ্র শুনবে।
তুলি ওপাশে কাউকে কথা বলতে না দেখে তুলি ঘুমের মধ্যে বিরক্ত হল, বললো,
‘কথা বলেন না কেন? কাকে চাই।’
শুভ্র মৃদু হেসে নিজেকে সামলালো। গলা পরিষ্কার করে বললো,
‘ঘুম ছাড়েনি এখনো, তুলি? না ছাড়লেও, উঠতে যে হচ্ছে। আমাদের আজকে সাজেক যাওয়ার কথা না?’
শুভ্রর কথা শুনে একলাফে উঠে বসল তুলি। কান থেকে ফোন নামিয়ে একবার নাম্বার দেখে নিলো। শুভ্র লাইনে দেখেই তুলি চটজলদি সালাম করে বসলো। শুভ্র সালামের উত্তর দিল। তুলি একবার ঘড়ি দেখলো। ইস, তাদের অলরেডি লেইট হয়ে গেছে। তুলি জিহ্বা কামড়ে বললো,
‘সরি। দেরি হয়ে গেছে না? দশ মিনিট টাইম দিন আমাকে। আমি ঝটপট রেডি হয়েই বেড়িয়ে যাচ্ছি। বাস স্টেশন কোনটা?’
শুভ্র বললো,
‘হ্যাঁ, অবশ্যই। বাস স্টেশন হলো শুভ্র বাস স্টেশন। চলে যাও দ্রুত।’
কৌতুক করে বললো শুভ্র। তুলি ভ্যাব্যাচেকা খেয়ে গেলো। কী বলল শুভ্র ঘুমের ঘোরে কিছুই বুঝলো না তুলি।বোকার মতো বলে বসলো,
‘অ্যাহ! শুভ্র বাস স্টেশন?’
শুভ্র হাসল এবার। বললো,
‘ইয়েস, ইউর পারসোনাল বাস স্টেশন। শুভ্র বাস স্টেশন আর দশ মিনিটের মধ্যে তোমার বাসার নিচে থাকবে। ঝটপট ব্যাগ নিয়ে বেরিয়ে যাও।আমি কিন্তু উপরে উঠব না। ওই টাইম এখন নাই আমাদের।’
তুলি বুঝলো এবার। হেসে ফেললো ও। বললো,
‘ওকে!’
তুলি ফোন কেটে একলাফে উঠে বসলো বিছানা থেকে। বিছানা ঝটপট গুছিয়ে মায়ের রুমে গেলো। ইয়াসমিন জোবায়েরকে জড়িয়ে ধরে ঘুমাচ্ছেন।তুলি অন্ধকারে আলগোছে মায়ের কাছে গিয়ে মাকে ডাকলো।
‘আম্মু? ও আম্মু? উঠো, আমি চলে যাচ্ছি।’
ইয়াসমিন কয়েকবার ডাকার পর চোখ খুললেন। তুলিকে মাথার পাশে এলোমেলো চুলে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে ভয়ে উঠে বসলেন। তুলি বললো,
‘শুভ্র স্যার এসেছেন। আমাকে নিচে নামতে বলেছেন।’
ঘুমের ঘোরে ইয়াসমিন ভুলেই বসলেন তুলির যাওয়ার কথা। বললেন,
‘তুই আবার কই যাবি?’
তুলি বিরক্ত হল। টি টেবিল থেকে ইয়াসমিনের চশমা নিয়ে চোখে পরিয়ে দিলো। তারপর বললো,
‘সাজেক যাচ্ছি। আমি রেডি হচ্ছি, তুমি এসো। দরজা লাগাবে।’
তুলি কথাটা বলেই দৌঁড় দিয়ে নিজের রুমে চলে গেলো। একটুপর ইয়াসমিন ঘুমের ঘোরে হেলেদুলে একটা সেদ্ধ ডিম নুন দিয়ে মাখিয়ে নিয়ে এসে তুলির ঘরে বিছানায় বসলেন। তুলি গোসল করে নতুম জামা পরে বের হলো। আয়নায় দাঁড়িয়ে চুল ঝাড়ছে, এই ফাঁকে ইয়াসমিন ডিমটা মুখে তুলে তুলিকে খাইয়ে দিলেন। তুলি কোনরকম ডিমটা খেয়ে হেয়ার ড্রায়ার দিয়ে চুল শুকিয়ে চুলে কাটা বেঁধে নিলো। মুখে সাধারণ সাজ দিল। এসবের মধ্যেই শুভ্রর কল এলো,
‘হ্যালো, শেষ তোমার?’
তুলি জবাব দিলো,
‘হ্যাঁ, বের হবো?’
‘হ্যাঁ, নিচে আছি আমি।’
তুলি কল কেটে ব্যাগ নিয়ে বাইরে গেল। ইয়াসমিন দরজার সামনে তুলির শরীরে দোয়া পড়ে ফুঁ দিয়ে দিলেন। তারপর বললেন,
‘সাবধানে যাবি। আর শুভ্রর সঙ্গে কোনোপ্রকার বেয়াদবি করবি না। ওখানে গিয়ে তোর শাশুড়িকে কল দিয়ে জানাবি যে, তোরা পৌঁছেছিস। শুভ্রর খেয়াল রাখবি, শাশুড়িকে কল করে করে বারবার জিজ্ঞেস করবি, মায়া বাড়বে তার। খাওয়া দাওয়া ঠিকঠাক মতো করবি,ব্যাগে মেডিসিন আছে। অসুস্থ হলে মেডিসিন নিবি।বারবার করে বলে দিচ্ছি শুভ্রকে নারাজ করবি না। চিল্লাপল্লা, দৌঁড়ঝাপ করবি না একদম।
তুলি এতসব উপদেশ শুনে একপর্যায়ে বিরক্ত হয়ে বললো,
‘শুভ্র স্যারকে নিয়ে তোমার এত চিন্তা আম্মু, কই আমাকে নিয়ে তো এত চিন্তা নেই?’
ইয়াসমিন হেসে বললেন,
‘যখন নিজের মেয়ে বিয়ে দিবি, তখন বুঝবি।’
তুলি পায়ে জুতো পরতে পরতে বললো,
‘সে অনেক দেরি। আচ্ছা আসি এখন। ভালো থাকবে। বাই!’
তুলি গাড়ির সামনে এলে শুভ্র ড্রাইভিং সিট থেকে নেমে তুলির জন্যে দরজা খুলে দিল। শুভ্রর এই ছোট্ট কাজে তুলি খুশি হলো ভীষণ। মৃদু হেসে গাড়িতে উঠলো। গাড়ি চলছে। শুভ্র বললো,
‘আমরা এখন আরিফের বাসায় যাচ্ছি। ওখান থেকেই মেইনলি বড় গাড়ি করে যাবো সবাই।’
‘ঠিকাছে।’
সকালের তীব্র বাতাসে তুলির চুল উড়ছে। বারবার শুভ্রর মুখের উপর পরছে। তুলির চুল থেকে বেশ সুন্দর এক স্মেল আসছে। আজ বোধহয় শ্যাম্পু করেছে তুলি।শুভ্র চোখ বন্ধ করে নাক টেনে ঘ্রাণ নিলো কিছুসময়।আরও কিছুসময় নেওয়ার ইচ্ছে ছিলো, কিন্তু চুলের খোঁচার জন্যে ড্রাইভিং করা যাচ্ছে না। তাই শুভ্র নিজেকে সামলে বললো,
‘তুলি, তোমার চুল?’
তুলি জানালার থেকে মুখ সরিয়ে পাশে চাইল। শুভ্রর মুখে সব চুল উড়ছে দেখে তুলি অপ্রস্তুত হয়ে সব চুল ঠিক করে খোঁপা করতে করতে বললো,
‘সরি, আসলে আমার চুল অনেক সিল্কি। বাঁধলেও ঠিক জায়গায় থাকে না।’
শুভ্র ডান হাতে ড্রাইভ করতে করতে তুলির দিকে তাকাল। বললো,
‘আমার মন্দ লাগেনি। পার্সোনালি আমার সিল্কি চুল ভালো লাগে।’
তুলি লজ্জা পেয়ে হাসলো। শুভ্র ড্রাইভ করছে। তারা এখন মহাখালির দিকে যাচ্ছে। দেখতে দেখতে তুলির নজর শুভ্রর হাতের দিকে চলে গেলো।সাদা শার্টের হাতা ফোল্ড করে কনুই অব্দি তুলে রাখা। দৃষ্টিগত হচ্ছে শুভ্রর হাতের পুরুষালি লোম। এক হাতে ড্রাইভ করার কারণে হাতের পেশি ফুলে আছে। আলাদা রকমের সুন্দর লাগছে শুভ্রকে ড্রাইভিং অবস্থায়। শুভ্র লক্ষ্য করল তুলি শুভ্রর হাতের দিকে চেয়ে আছে। শুভ্র বারণ করলো না। শুধুমাত্র মৃদু হাসলো।
————
শুভ্র আর তুলি দাঁড়িয়ে আছে এই মুহূর্তে ডাক্তার আরিফের নিজস্ব মহাখালি ফ্ল্যাটের সামনে। ডাক্তার ফারহান এবং তার ওয়াইফও এখানেই। তুলিকে তারা আজ প্রথম দেখবেন। ছাত্রী হিসেবে নয়, শুভ্রর বউ হিসেবে। আরিফ এবং ফারহান দুজনেই শুভ্রর খুব ক্লোজ। কাবিনের দিন এদের বলা হয়েছিল আসার জন্যে, দুজনেই শহরের বাইরে থাকায় আসতে পারেনি। আজ তুলিকে দেখে তারা কেমন প্রতিক্রিয়া জানাবে ভাবলে শুভ্র নার্ভাস হয়ে যাচ্ছে। মেডিকেলের মোস্ট এরোগেন্ট, ইগোইস্টিক ডাক্তার উমায়ের হোসেন শুভ্র শেষ অব্দি তার ছাত্রীকে বিয়ে করল। পুরো ব্যাপারটাই তো লজ্জার। শুভ্র মনেমনে নিজেকে প্রস্তুত করছে কিভাবে তুলিকে তাদের সঙ্গে পরিভিয় করিয়ে দিবে।
শুভ্র কলিং বেল বাজানোর আগে তুলিকে বললো,
‘তুলি?’
তুলি শুভ্রর দিকে তাকাল। তারপর শুভ্র কিছু বলার আগেই তুলি বললো,
‘স্যাররা কী রিয়েকশন দিবেন ভাবলে ভয় লাগছে আমার। আমি এভাবে-‘
‘কিছু হবে না। ভয় পেও না। তুমি সুন্দর করে জাস্ট সালাম দিবে, বাকিটা আমি সামলে নিব।’
তুলি আশ্বস্ত হয়ে মাথা নাড়লো। শুভ্র কলিং বেল বাজাল।তারপর আরও একবার তুলির দিকে চেয়ে বললো,
‘ডোন্ট ওরি, আমি আছি না?’
তুলি এবার হাসলো। শুভ্র যখন এভাবে ম্যাজিক ভয়েজে কথা বলে, তুলি হারিয়েই যায়। তখন মনে হয়, তুলি এই পৃথিবী, উহু মহাকাশ অব্দি জয় করতে জানে।
দরজা খুললো ডাক্তার আরিফ। তার সঙ্গে দাঁড়িয়ে আছে ডাক্তার ফারহান। তারা শুভ্রকে দেখে ‘হাই-হ্যালো’ করবে তার আগেই দুজনেরই চোখ গেলো পাশে নত মুখে দাঁড়িয়ে থাকা তুলির দিকে। তুলি হালকা আওয়াজে দুজনকেই সালাম করলো। শুভ্র এগিয়ে এসে দুজনকে ম্যানলি হাগ করল।তবে তুলিকে একবার দেখেই দুজনের কারোরই এই জড়িয়ে ধরার দিকে মন নেই। দুজনেই অবিশ্বাস্য চোখে তুলির দিকে চেয়ে আছে। শুভ্র সরে এসে তুলির কাঁধে হাত রাখল। কাঁধে প্রথম কোন পুরুষের স্পর্শে তুলি চোখ তুলে চাইল। দুচোখে ভেসে উঠে শুভ্র নামক এক দায়িত্ববান সুপুরুষ! শুভ্র তুলিকে নিজের কাছে হালকা করে টেনে আনল। তারপর মৃদ্যু হেসে দুজনের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিলো,
‘ওকে, মিট ম্যাই ওয়াইফ। মিসেস প্রত্যাশা হোসেন তুলি।’
#চলবে......
#অ্যারেঞ্জ_ম্যারেজ
#অবন্তিকা_তৃপ্তি
#পর্ব_১২
শুভ্র সরে এসে তুলির কাঁধে হাত রাখল। কাঁধে প্রথম কোন পুরুষের স্পর্শে তুলি চোখ তুলে চাইল। দুচোখে ভেসে উঠে শুভ্র নামক এক দায়িত্ববান সুপুরুষ! শুভ্র তুলিকে নিজের কাছে হালকা করে টেনে আনল। তারপর মৃদ্যু হেসে দুজনের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিলো,
‘ওকে, মিট ম্যাই ওয়াইফ। মিসেস প্রত্যাশা হোসেন তুলি।’
শুভ্রর স্ত্রী তুলি? ডাক্তার আরিফ এবিং ফারহান একসঙ্গে বিস্ময় নিয়ে চেঁচিয়ে উঠলো,
‘ওয়াইফ?’
দুজনের এমন চেঁচিয়ে উঠাতে শুভ্র কানে হাত চাপলো। তুলি ভয়ে সেটিয়ে গেলো শুভ্রর গায়ের সঙ্গে। অস্বস্তিতে তুলি রীতিমত জমে যাচ্ছে। শুভ্র কান থেকে হাত নামালো। তারপর দুজনের উদ্দেশ্যে বললো,
‘আগে ঘরে ঢুকি? ডিটেইলস পড়ে বলি, রিয়েকশন তখন দেখাস।’
শুভ্র তুলি এতসময় ধরে বাইরে দাঁড়িয়ে আছে দেখে দুজনেরই হুশ ফিরলো। আরিফ দরজার সামনে থেকে সরে দ্রুত বললো,
‘ওহ হ্যাঁ, ভেতরে আয়। তুলি তুমিও ভেতরে আসো।’
শুভ্র তুলিকে আগে দিলো। তুলি ঘরে ঢুকলে আরিফের স্ত্রী মহু এগিয়ে আসলো। তুলি সালাম করলো তাকে। মহুও ডাক্তার। তবে অন্য মেডিকেলের। তুলিকে দেখে তবুও কিভাবে যেন মহু চিনে ফেললো। কিছু ভেবে বললো,
‘তুমি আরিফের মেডিকেলের স্টুডেন্ট না? তোমাকে মেডিকেলে দেখেছি আমি, চাইল্ড বার্থের উপরে প্রেজেন্টেশন দিচ্ছিলে, রাইট?’
তুলি মাথা নেড়ে হ্যাঁ বললো। অথচ তুলির মনে পরছে না সে মহু ম্যাডামকে তাদের মেডিকেল কখনো দেখেছে কিনা। আরিফ শুভ্রর পাশে সোফায় বসে মহুকে বললো,
‘মহু, শুভ্রর ওয়াইফ ও। আর আমাদের স্টুডেন্ট অলসো, তাইনা শুভ্র?’
শুভ্র আরিফের টিটকারি শুনে বিরক্ত চোখে তার দিকে তাকালো। ছেলেটা এমনিতেই ছোট থেকে ছোট বিষয় নিয়ে শুভ্রকে টিটকারি করে। আর এখন পেয়েছে জলজ্যান্ত বিষয়। টিটকারি আবার করবে না?
মহু প্রথমে অবাক হয়েছে। পরপরই মৃদ্যু হেসে তুলির বাহুতে হাত রেখে আরিফকে বললো,
‘স্টুডেন্ট এটা এত রসিয়ে বলার কী আছে, আরিফ? তুমিও না। এত সুন্দর মেয়ে বিয়ের আগে দেখলে তুমিও লাফাতে!’
আরিফ ভ্যাব্যাচ্যাকা খেয়ে বললো,
‘মহু, আমাদের রিলেশন করে বিয়ে, ভুলে গেছো? বিয়ের আগেও তো কোন সুযোগই দিলে না, আবার লাফানো!’
মহু মুম ভেঙালো।চোখ পাকিয়ে বললো,
‘চান্স পেলে ট্যাংকি মারতে? ছিঃ! শোধরাবে না তুমি?’
পুরো ব্যাপারটা আরিফের স্রোতের উল্টোদিকে যাচ্ছে দেখে আরিফ কথা থামালো। টপিক পাল্টে বললো,
‘শুভ্র তুই অনেক টায়ার্ড, ক্ষুধাও লেগেছে, না? মহু, চটজলদি নাস্তা দাও তো আমাদের, সঙ্গে গরম গরম চা। চা খেয়েই বেড়িয়ে যাব আমরা।’
মহু আর দেরি করে না। তুলিকে ভেতরে নিয়ে যায়। মহিলারা যেতেই আরিফ এবার পুরোপুরি ঘুরে বসলো শুভ্রর দিকে। শুভ্র বাঁকা চোখে আরিফের পল্টি খাওয়া দেখলো। আরিফ নিজেকে প্রস্তুত করলো। তারপর গম্ভীর স্বরে বললো,
‘কাহিনি ঝাড়। তুলি আর তুই? কিভাবে কি? রিলেশন করে বিয়ে আমাকে বলবি না। তুই ওরকম ছেলেই না, আমি জানি।’
ফারহানও ওদিকে উৎসুক চোখে শুভ্রর দিকে চেয়ে আছে। শুভ্র তারপর দুজনকেই পুরো কাহিনি শোনালো। সব শুনে ফারহান বললো,
‘তুলি মেনে নিয়েছে তোকে?’
শুভ্র উত্তর দিলো,
‘বোধহয় ট্রাই করছে।’
‘আর তুই?’
আরিফের প্রশ্নে শুভ্র থামলো। পরপর ছোট্ট করে নিঃশ্বাসনিয়ে বললো,
‘চেষ্টা করছি, আই থিঙ্ক আমার ওকে ভালোই লাগে! শি ইজ অ্যা ম্যাচোর গার্ল, চিন্তা ভাবনা একদম আমার মতো। আর সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে, তুলি আম্মুর সাথে খুবই ফ্রেন্ডলি। আম্মু তুলির সংস্পর্শে ভালো থাকে, যেমনটা আমি সবসময় চেয়ে এসেছি। বিয়ে নিয়ে আমি সবসময় ভয় পেতাম, জানিস।সবসময় চিন্তা থাকতো, যে মেয়ে আসবে,আম্মুকে আমার মতো ভালোবাসবে কিনা। বাট নাও, আম স্যাটিসফাইড। তুলি সবদিকেই আমার কাছে বেস্ট লেগেছে। বাকিটা এখন ভাগ্য।’
সব শুনে আরিফ এবং ফারহানকে নিশ্চিন্ত হতে দেখা গেলো। ফারহান বললো,
‘এই ট্যুরটা তোদের জন্যে খুব কাজে দিবে। ভালো করেছিস তুলিকে নিয়ে যাচ্ছিস সাথে। তোদের ফার্স্ট হানিমুনও সেরে গেলো ব্যাটা।’
শুভ্র হালকা হাসলো। ওদের কথা বলার ফাঁকে আরিফকে রান্নাঘর থেকে ডাকল মহু। আরিফ উঠে নাস্তা রান্নাঘর থেকে এনে টেবিলে সাজালো। সবাই মিলে নাস্তা শেষ করে বেরিয়ে গেলো বাস স্টেশনের উদ্দেশ্যে।
আরিফ টিকেট আনতে গেছে সবার জন্যে। শান্তি পরিবহন বাস ঢাকা থেকে খাগড়াছডি অব্দি যাবে। একমাত্র এই বাসেই খাগড়াছড়ির দীঘিনালা অব্দি যাবে। তাই তারা এই বাসেই ঠিক করছে সাজেক যাওয়ার জন্যে।
শুভ্র এইফাঁকে তুলিকে জিজ্ঞেস করলো,
‘কিছু কিনবে? বাসে খাওয়ার জন্যে?’
তুলি আশেপাসে একবার দেখে বললো,
‘আচার পাওয়া যাবে এখানে?’
শুভ্র একবার আশেপাশের দোকান দেখে বললো,
‘আমি দেখি পাই কিনা। তুমি মহুর সাথে দাড়াও।’
শুভ্র তুলিকে মহুর পাশে দাড় করিয়ে রেখে আচার খুঁজতে চলে গেল। মহু জিজ্ঞেস করল তুলিকে,
‘শুভ্র আবার কোথায় যাচ্ছে?’
‘আচার কিনতে।’
‘কে খাবে? তুমি?’
তুলি স্বাভাবিক ভাবে মাথা নাড়লো। মহু হালকা হেসে বললো,
‘আমার কাছে আছে, আবার আনাতে গেলে কেন? আচার তো আমার কাছে কয়েকমাস থেকে সবসময়ই থাকে।’
‘কেন ম্যাডাম? আপনি এত আচার পছন্দ করেন?’
তুলি অবাক হয়ে প্রশ্ন করল। মহু মৃদ্যু হাসলো। পেটে হালকা করে হাত বুলিয়ে বললো,
‘ইনি আসার পর থেকে রোজ খাওয়ান আমাকে। আচার খেলে বমি কম হয়, তাই আরিফ কয়েক ধরনের আচার এনে রাখে বাসায়।’
তুলি খানিক বিস্মিত হল। বললো,
‘আপনি প্রেগনেন্ট অবস্থায় এতদূর যাচ্ছেন? সমস্যা হবে না?’
‘উহু। বরং আমার মাইন্ড ফ্রেশ হবে। কদিন ধরে মনে হচ্ছে, আমি মেন্টালি খুব উইক হয়ে যাচ্ছি। অযথা চেচাচ্ছি। আরিফের সঙ্গেও কয়েকবার খারাপ ব্যবহার করলাম। ও কিছু বলে না আমাকে, কিম্তু আমি বুঝতে পারছি আমার ফ্রেশ হওয়া দরকার। ডেইলি লাইফের এমন ঝুটঝামেলা থেকে কদিন রেহাই দরকার। তাইই ভাবলাম ঘুরে আসি।’
তুলি অবাক হয়। মানুষটার কী ধৈর্য্য। এমন একটা অবস্থায় এভাবে দিব্যি ঘুরে বেড়াচ্ছেন। তুলি হলে বিছানায় ল্যাদ খেয়ে পড়ে থাকত। নিজে যন্ত্রণায় ভুগতো, আশেপাশের সবাইকেও জ্বালিয়ে মারতো। তুলি হালকা হাসলো। এরমধ্যে শুভ্র এসেছে। হাতে পলিথিন। আচারের সঙ্গে আরও হাবিজাবি চকলেটস আর চিপস কিনে এনেছে। আরিফও এরমধ্যে টিকেট কিনে এনেছে।
বাস ছেড়েছে কিছুক্ষণ হয়েছে। মহু শরীর খারাপ লাগছে, আরিফের কাঁধে মাথা হেলান দিয়ে শুয়ে আছে। ফারহানের কাঁধে মাথা হেলিয়ে বাহিরের দিকে চেয়ে আছে দিয়া। তাদের দেখে তুলিরও ইচ্ছে করছে শুভ্রর কাঁধে মাথা রাখতে। কিন্তু সঃঙ্কোচের কারণে হচ্ছে না। শুভ্রও তো আগবাড়িয়ে কিছু বলছে না। তুলি মেয়ে হয় কিভাবে বলবে? সেই কখন থেকে ওরা দুজন চুপ করে বসে আছে বাসে। কেউ কি তাদের দেখে বলবে, এরা সদ্য বিবাহিত কোনো কাপল?
তুলি বিরক্ত হয়ে বাসের জানালায় মাথা ঠেকিয়ে বসে। বাস ক্রমাগত নড়ছে। তুলি তাই ঠিকঠাক মাথা রাখতে পারছে না। উল্টো ব্যাথা পাচ্ছে। তুলি তাও রাগে মাথা সরাল না। ঠেকিয়েই রাখলো। শুভ্র ফোনে এতোক্ষণ কাজ করছিল। একপর্যায়ে তার চোখ গেল তুলির দিকে। তুলি ঘুমে পড়ে যাচ্ছে। তাও কষ্ট করে চোখ খুলে রেখেছে। কপালে কী ব্যাথা লাগছে না তুলির? শুভ্রর বলতে ইচ্ছে হচ্ছে, তুলি চাইলে শুভ্রর কাঁধে মাথা রাখতে পারে। কিন্তু লজ্জা আর সংকোচে বলতে পারছে না। তাও সে বললো,
‘তুলি? তুলি? এভাবে ঘুমিও না। কপাল ফুলে যাবে বাসের ধাক্কায়। রাস্তাটা বেশি ভালো না।’
তুলির ধ্যান ভাঙে। ঘুম থেকে উঠে বসে আবার সোজা হয়ে। শুভ্রর দিকে চায়। ঘুমে চোখ মেলতে পারছে না তুলি। চোখ ঘুরিয়ে ঘুমানোর জায়গা খুঁজছে। শুভ্র বললো,
‘কী দেখছ?’
তুলি লম্বা হামি তুলে বলল,
‘ঘুমাবো কোথায় আমি? সিটটা পেছনে হেলানো যায় না আর?’
শুভ্র সিটটা হাত দিয়ে একবার দেখলো। তারপর বললো,
‘না আর যাবে না।’
তুলির তখন শুভ্রর মাথায় মারতে ইচ্ছে হলো। বলতে ইচ্ছে হল, আপনার বুক আর কাঁধ থাকতে আমি কেন সিটে মাথা দিয়ে ঘুমাবো?
কিন্তু বলতে পারল না। তাদের সম্পর্ক আট দশটা স্বাভাবিক কাপলদের মতো নয়।তাই দুজনের কেউই চাইলে স্বাভাবিক কাপলদের মতো আচরণ করতে পারে না। তুলি দীর্ঘশ্বাস ফেললো। হাল ছেড়ে দিয়ে শেষমেশ সোজা সিটেই হেলান দিয়ে ঘুমানোর চেষ্টা করল। সিটে মাথা রেখে চোখ বুজলো। তবে বাসের ধাক্কায় বারবার মাথা পড়ে যাচ্ছে তুলির। শুভ্র সব দেখছে। একবার ফারহান আর আরিফকে দেখে তার খুব করে বলতে ইচ্ছে হচ্ছে তুলিকে নিজের কাঁধে মাথা রাখার কথা। কিম্তু গলায় যেন আজ কেউ পাথর বসিয়ে দিয়েছে। শুভ্র কথাই বলতে পারছে না ঠিকঠাক। সদ্য বিবাহিত স্ত্রী হিসেবে তুলি পাশে বসে আছে, হানিমুনে যাচ্ছে তারা। এই ব্যাপারটাই শুভ্রকে বারবার লজ্জা দিচ্ছে।
তুলি ঘুমাতে পারছে না ভালো করে। তাই শুভ্র একসময় নিজেকে শক্ত করল। কাচুমাচু হয়ে তুলিকে ডাকল,
‘তুলি, এই তুলি? উঠো। আমার কাঁধে মাথা রেখে শোও। এভাবে ঘুমালে ঘাড় ব্যাথা করবে তো।’
#চলবে
আপনাকে অনেক ধন্যবাদ অ্যারেঞ্জ ম্যারেজ ❤ | পর্ব ৯ থেকে ১২ | Arrange Marriage | ভালোবাসার গল্প | রোমান্টিক গল্প | AduriPakhi এই পোস্ট টি পড়ার জন্য। আপনাদের পছন্দের সব কিছু পেতে আমাদের সাথেই থাকবেন।
