হৃদয় জুড়ে শুধুই তুই
পর্বঃ- ৩১
__________
আজ শুক্রবার,, তাই ইশা সকাল থেকেই ড্রয়িংরুমের সোফায় এসে বসে আছে আয়াশের অপেক্ষায়। ভালোবাসা কি অদ্ভুত তাই না?? যেই মানুষটা শুক্রবার আসলে সকাল ১০টার আগে ঘুম থেকে উঠেনা। সে কিনা শুক্রবার সকাল ৮টায় ঘুম থেকে উঠে বসে আছে শুধু মাত্র ভালোবাসার মানুষটির কাছ থেকে একটু সময়ের আশায়। এক মিনিট......দুই মিনিট.....তিন মিনিট করতে করতে অবশেষে ৩০ মিনিট পর আয়াশের দেখা মিললো। আয়াশকে মোবাইল টিপতে টিপতে সিঁড়ি দিয়ে নামতে দেখে ইশার মুখে আপনা আপনি হাসি ফুটে উঠলো। কতোদিন পর মানুষটিকে এভাবে সামনা সামনি দেখছে। ওর যেন চোখই সরছেনা আয়াশের উপর থেকে। তার উপর আয়াশ একটা স্কাই কালার শার্ট পড়েছে আজ। আয়াশ ফর্সা হওয়ায় স্কাই কালারটা ওকে বরাবরই খুব বেশি মানায়। আজও তার ব্যতিক্রম হয়নি। স্কাই কালার শার্টটিতে আয়াশকে অসম্ভব সুন্দর লাগছে। ইশার বেহায়া চোখ গুলো যেন অন্য দিকে তাকাতেই ভুলে গেছে। ইশা আয়াশের দিকে এতোটাই গভীরভাবে তাকিয়ে ছিলো যে আয়াশ কখন যে সিঁড়ি পেরিয়ে ওর পাশ দিয়েই চলে যাচ্ছিলো ইশা টেরই পাইনি। আয়াশ যখনই ইশাকে পাশ কাটিয়ে চলে যেতে নিচ্ছিলো তখনই পিছন থেকে আনিসা বেগম ডেকে উঠলেন।
" আয়াশ! কি রে সকাল সকাল রেডি হয়ে কোথায় যাচ্ছিস? নাকি আজ শুক্রবার যে সেটাও ভুলে গিয়েছিস। "
মায়ের কথায় এতক্ষণে ইশার ধ্যান ভাঙলো। সম্বিত ফিরে সিঁড়ির দিকে তাকাতেই দেখলো আয়াশ নেই। ইশা তৎক্ষনাৎ চোখ ঘুরিয়ে পাশে তাকাতেই দেখলো আয়াশ ওর পাশে। ও কিছু বলতেই যাবে তার আগেই আয়াশ বলে উঠলো ----
" ছোট মা তুমিও না! আজ যে শুক্রবার সেটা আমি ভুলিনি। আমার একটা বাইরে ইম্পর্ট্যান্ট কাজ আছে তাই তাড়াহুড়ো করে বেরিয়ে যাচ্ছি।
" সে নাহয় বুঝলাম। বাট নাস্তা তো করে যা। সকাল সকাল না খেয়েই বেরিয়ে পড়বি?
" আরে কিছু হবেনা। আমি এখন নাস্তা করবোনা। বাইরে খেয়ে নিবো। অয়ন উঠলে বলো আমি বাইরে গিয়েছি। আসছি আমি। মা আসছি।
" হুমমম আয়। আনিসা বলছে যখন শুনছিস না। আমার কথা ও তো শুনবি না। সকাল সকাল এভাবে কেউ খালি মুখে বের হয়? তোর যেখানে ইচ্ছা যা। আমি কিছু বলবোনা। যেখানে ইচ্ছা যা। আমাকে বলতেও হবেনা। তোরা বাপ ছেলে মিলে যা শুরু করেছিস, আমার এতে কিছু বলার নেই।
আয়াশ বরাবরই মায়ের কথা ফেলতে পারেনা। মা কষ্ট পাবে এমন কিছু করার কথা যেন বাস্তবে বাদ দিয়ে স্বপ্নেও ভাবতে পারেনা। তাই এখনও বরাবরের ব্যতিক্রম হয়নি। মায়ের অভিমানী কণ্ঠ শুনে ও আর সামনে পা রাখতে পারলোনা। মুচকি হেসে পিছন ফিরে মায়ের দিকে তাকালো। রুকসানা বেগম মুখটা থমথমে করে ডাইনিংয়ের খাবার গুলো ঘুরে রাখছেন। আয়াশ হেসে ডাইনিংয়ে গিয়ে বসলো। মায়ের দিকে তাকিয়ে বললো---
" সে কি মা! খাবার গুলো ঘুরে রাখছো কেন? আমাকে দিবানা?
" তুই তো এখন মহা ব্যস্ত। ইলেকশনে অংশ গ্রহণ করেছিস কিনা। তোর কি নাস্তা করার মতো অতো সময় আছে? যা কোথায় যাচ্ছিস চলে যা। বাইরে তো আবার খাবারের অভাব পড়েনা তোদের বাপ ছেলের জন্য।
" আরে তুমি না বললে খালি মুখে বের হতে নেই। এখন আবার না খেয়ে চলে যেতে বলছো?
বলেই আয়াশ মুখ টিপ হাসলো। রুকসানা বেগম কিছু না বলে খাবারের প্লেট গুলো আয়াশের দিকে এগিয়ে দিলেন। আয়াশ খাবার খেতে খেতে বললো-----
" আচ্ছা ছোট মা! আজ খাবার গুলো কে বানিয়েছে বলো তো।
" আর কে বানাবে। ভাবি বানিয়েছে।
" তাই তো বলি। আজ খাবার গুলো দারুণ খেতে হয়েছে। উফফ ভাজিটার কি স্মেল যে বেরিয়েছে। আর পরোটা গুলো তো একদম সোফার ডুফার হয়েছে। "
রুকসান বেগমের রান্না বরাবরই অসম্ভব রকম ভালো হয়। কিন্তু এই মুহূর্তে আনিসা বেগম ভালো করেই বুঝতে পারছেন, আয়াশ মায়ের মুখে হাসি ফুটানোর জন্য এসব বলছে। তাই উনিও আয়াশের সাথে তাল মিলিয়ে বললেন ---
" হ্যাঁ, তোর চাচ্চু ও এটাই বলছিলো। আর এমনিতেও ভাবির রান্না কি কখনো খারাপ হয়? আমার থেকে ভাবির রান্নাই সবসময় ভালো হয়। আমি এতো বছর ধরে চেষ্টা করেও ভাবির মতো রান্না করা শিখতে পারলামনা আজও।
" আরে ছোট মা! তুমি শুধু শুধু অযথা ট্রাই করে যাচ্ছো। ইউ নো না! আমার মা ওয়ার্ল্ডে এক পিস-ই আছে। তুমি শত চাইলেও মায়ের মতো কখনও রাঁধতে পারবেনা। তাই না মা?
রুকসানা বেগম নিশ্চুপ। মুখটা উনার এখনও থমথমে। এটা দেখে আয়াশ বললো-----
" আচ্ছা মা! খালি মুখে বের হতে নেই এটা বুঝো। আর আমি যে তোমাকে এভাবে দেখে বাইরে যেতে পারিনা সেটা বুঝোনা? প্লিজ মন খারাপ করে থেকোনা। তোমাকে এভাবে দেখলে আমার ভালো লাগেনা।
" আমার কথা কি কারো ভাবার মতো টাইম আছে? আমি যেভাবেই থাকি তাতে কার কি আসে যায়?
" তাই? কিন্তু তুমি বোধহয় জানোনা। আর কারও কিছু না আসলে গেলেও, আমার কিন্তু অনেক কিছু যায় আসে। প্লিজ আমার উপর রাগ করে থেকোনা। যদি আমি কোনো ভুল করে থাকি তাহলে আমাকে বকবে, প্রয়োজনে মারবে, কিন্তু এভাবে মন খারাপ করে থেকোনা প্লিজ। "
রুকসানা বেগম এতক্ষণ চুপ করে থাকলেও,, এবার যেন আর ভিতরের চাপা কষ্টটা ভিতরে পুষে রাখতে পারলেন না। আয়াশের আদুরে কণ্ঠ শুনে ডুকরে কেঁদে উঠলেন। আচমকাই মা'কে এভাবে কাঁদতে দেখে আয়াশ তো পুরোই অবাক। আয়াশ ভাবতেও পারেনি ওর মা এভাবে কেঁদে উঠবেন। মায়ের কান্না দেখে আয়াশ তৎক্ষনাৎ চেয়ার ছেড়ে উঠে এক হাতে মা'কে বুকে জড়িয়ে নিলো। তারপর আদুরে গলায় বলতে লাগলো----
" মা! কি হয়েছে এভাবে কাঁদছো কেন? প্লিজ ডোন্ট ক্রাই। কি হয়েছে বলো আমায়। কেউ কি কিছু বলেছে? ছোট মা! মা'কে কি বাবা কিছু বলেছে? "
রুকসানা বেগমকে কাঁদতে দেখে আনিসা বেগমও দৌড়ে আসলেন ওদের কাছে। আয়াশের প্রশ্ন শুনে একটু ভেবে বললেন----
" কই? ভাইজান তো তেমন কিছু বলেনি। আমার মনে হয় ভাবিকে ভাইজান কিছু বলেছে বলে কিংবা অন্য কোনো কারণে কাঁদছে না।
" তাহলে?
" আমার মনে হয় ভাবি তোকে এভাবে দেখতে পারছেনা। তাই ভিতরে ভিতরে কষ্ট পাচ্ছে।
" মা! তুমি সত্যি আমার জন্য কাঁদছো? কিন্তু আমি তো ভালো আছি। প্লিজ তুমি কেঁদোনা আর। এভাবে কাঁদলে তোমার শরীর খারাপ করবে। এই দেখো, তোমার ছেলে একদম ঠিক আছে। প্লিজ ডোন্ট ক্রাই।
রুকসানা বেগম ছেলের বুকে মাথা রেখে কাঁদতে কাঁদতেই বললেন ----
" তুই কতোটা ভালো আছিস সেটা তো আমি দেখতেই পাচ্ছি। মাত্র দুই সপ্তাহ হয়েছে মনোনয়ন পেয়েছিস। আর এই দুই সপ্তাহে নিজের শরীরের কি হাল করেছিস দেখতে পাচ্ছিস? আয়নায় একবারও নিজের অবয়বটা দেখেছিস? দেখলে বুঝতে পারতিস আমার কেন কষ্ট হচ্ছে।
" হাহাহাহা, মা! তুমি আমার জন্য একটু বেশি চিন্তা করো বলেই তোমার এমন মনে হচ্ছে। দেখো, আমি একদম ঠিক আছি। প্লিজ তুমি কেঁদো না। এদিকে এসো। এখানে বসো। তুমি না আমার লক্ষ্মী মা? বসো এখানে। "
বলতে বলতে আয়াশ রুকসানা বেগমকে নিজের থেকে ছাড়িয়ে যত্ন করে ধরে সেখানে রাখা একটা চেয়ারে বসিয়ে দিলো। তারপর রুকসানা বেগমের সামনে হাঁটু গেড়ে বসে রুকসানা বেগমের চোখের জল মুছে দিতে দিতে আদুরে গলায় বললো----
" দেখো তো বাচ্চাদের মতো করে কিভাবে কাঁদছে? এভাবে কেউ কাঁদে? এই দেখো, আমি একদম ঠিক আছি। বিশ্বাস না হলে তুমি ছোট মা'র কাছ থেকে জিজ্ঞেস করো। ছোট মা! তুমিই একটু মা'কে বলো তো আমি সত্যিই ঠিক আছি নাকি। মা তো আমার কথা বিশ্বাস করছেনা।
বলেই আয়াশ আনিসা বেগমকে চোখে কিছু একটা ইশারা করলো। আনিসা বেগম কি বুঝেছেন কে জানে! আনিসা বেগম আয়াশের পাশে এসে দাঁড়িয়ে রুকসানা বেগমের কাঁধে হাত রেখে বললেন----
" ভাবি! তুমি শুধু শুধু টেনশন করছো। আয়াশ তো বলছে আয়াশ ঠিক আছে। প্লিজ তুমি এভাবে ভেঙ্গে পড়োনা। তুমি এমন করলে তোমার তো শরীর খারাপ করবে। প্লিজ শান্ত হও। "
রুকসানা বেগম আনিসা বেগমের দিকে তাকিয়ে ভেজা গলায় বললেন------
" আনিসা! তুমি এই কথা বলছো? আমার থেকে তো তুমি আয়াশকে ভালো করে জানো। তোমার কি আয়াশকে দেখে মনে হচ্ছে আয়াশ ভালো আছে? আমার হাসি খুশি ছেলেটা মাত্র দুই সপ্তাহে কেমন হয়ে গেছে কারো চোখে পড়ছেনা? তোমার তো ওর সবকিছু সবার আগে চোখে পড়ে। সত্যি করে বলো তো আনিসা, তোমার আয়াশের পরিবর্তনটা চোখে পড়ছেনা? "
আনিসা বেগম নিশ্চুপ। কারণ রুকসানা বেগম যেগুলো বলছেন সবগুলো কথাই সত্যি। উনিও খেয়াল করেছেন আয়াশের পরিবর্তনটা। আয়াশ যে মনোনয়ন পাওয়ার পর থেকে নিজেই নিজের সাথে যুদ্ধ করছে, সেটা আনিসা বেগমও বেশ ভালো করে বুঝতে পেরেছেন। তাই রুকসানা বেগমের কথার পরিপ্রেক্ষিতে কিছু বলার জন্য খুঁজে পেলেননা। তাই নিরবতাকেই আপন করে নিয়েছেন।
" দেখেছিস? আনিসাও চুপ করে আছে। তার মানে তো এটাই দাঁড়ায় যে আনিসাও তোর পরিবর্তনটা খেয়াল করেছে। "
আয়াশ পরম যত্নে মায়ের হাত দুটো নিজের হাতের মুঠোয় নিয়ে আদুরে গলায় বললো----
" মা! তোমরা শুধু শুধু টেনশন করছো। তোমরা যেমনটা ভাবছো তেমন কিছুই না। আচ্ছা ঠিক আছে। তুমি বলো আমায় কি করতে হবে। তুমি যা বলবে আমি তাই করবো। তারপরেও প্লিজ তুমি আমাকে নিয়ে ভিতরে ভিতরে কষ্ট পেয়োনা। তোমাকে কষ্ট পেতে দেখলে আমার ভালো লাগেনা।
" তুই প্লিজ ইলেকশন করা ছেড়ে দে। অনেকেই পদ পাওয়ার জন্য বসে আছে। তুই বললে যে কেউ তোর পদটা নিয়ে নেবে। প্লিজ তুই আগের মতো হয়ে যা। আমি তোকে এভাবে দেখতে পারছিনা বাবা।
" সরি মা! এটা সম্ভব না। প্লিজ তুমি এটা ছাড়া অন্য যেকোনো কিছু বললে আমি রাখার চেষ্টা করবো। কিন্তু এটা বলোনা।
" আমি জানতাম তুই আমার কথা রাখতে পারবিনা। তাই আমি এতোদিন ধরে নিজে ভিতরে ভিতরে কষ্ট পেয়েছি। কিন্তু কাউকে কিছু বলিনি। কারণ আমার কথা কেউ রাখবেনা।
" মা! তুমি যেমনটা ভাবছো তেমন কিছুই না। আচ্ছা আমি প্রমিস করছি, ইলেকশনও করবো পাশাপাশি আমি নিজেকেও সময় দিবো। প্লিজ তুমি কষ্ট পেয়োনা। আমি একদম আগের মতো হয়ে যাবো। আগের মতো হয়ে গেলে তো ইলেকশন করাতে তোমার কোনো আপত্তি নেই, তাই না?
" সত্যি তুই আগের মতো হয়ে যাবি? (হেসে)
" হুমমমম, সত্যি।
" তাহলে ঠিক আছে। আমি শুধু আমার ছেলেকে আগের মতো দেখতে চাই ব্যাস। "
মায়ের মুখে হাসি ফুটেছে দেখে আয়াশের যেন প্রাণে পানি আসলো। আয়াশ মায়ের হাতে আলতো ঠোঁট ছুঁইয়ে দিয়ে বললো -----
" আমার লক্ষ্মী মা। এবার তাহলে আমি আসি? ঐ যে দেখো, আমি কিন্তু খাবার কমপ্লিট করেছি। এবার আমি আসি? "
রুকসানা বেগম হেসে ছেলের মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে বললেন---- " সাবধানে যাস। "
" আচ্ছা ঠিক আছে। তুমি নিজের খেয়াল রেখো। ছোট মা আমি আসছি তাহলে। "
কথাটা বলে আয়াশ উঠে দাঁড়ালো। আনিসা বেগম আদুরে গলায় বললেন-----
" হুমমম আয়। সাবধানে গাড়ি চালাস। তাড়াহুড়ো করবিনা যেন।
" ওকে আসছি। মা'কে দেখো। "
বলেই আয়াশ সেখান থেকে চলে গেলো। আশ্চর্য হলেও সত্যি যে, আয়াশ ইশার পাশ কেটে গিয়েছে কিন্তু ইশার দিকে একটাবার ফিরেও তাকায়নি। ইশা এতক্ষণ চুপচাপ বসে বসে আয়াশ আর বড় আম্মুর ভালোবাসা দেখছিলো। বড় আম্মুর কান্না দেখে ভেবেছিলো আয়াশ হয়তো আজ আর বড় আম্মুর জন্য বাইরে যাবেনা। তাই ইশা এতক্ষণ চুপচাপ সবকিছু দেখছিলো। কিন্তু যখন দেখলো আয়াশ বড় আম্মুকে ওর চালে ফেলে বাইরে চলে যাবে। তখন বড় আম্মুর চোখের জল দেখে আয়াশকে নরম হয়ে যেতে দেখে ইশা মনে মনে ঠিক করে নিলো, আয়াশ যদি ওকে সময় দিতে রাজি না হয় তাহলে প্রয়োজনে ও আয়াশের সামনে কান্নার অভিনয় করবে। তারপরেও আয়াশকে কিছুতেই হাত ছাড়া করবেনা আজ। আয়াশকে বেরিয়ে যেতে দেখে ইশা সাথে সাথে আয়াশের পিছন পিছন দৌড় দিলো। কিন্তু আয়াশের হাঁটা স্পিড থাকায় আয়াশের পিছনে দৌড়েও ইশা আয়াশকে ধরতে ধরতে গাড়ির কাছে চলে আসতে হয়েছে। আয়াশ গাড়িতে উঠতেই যাবে, তখনই ইশা পিছন থেকে ডাক দিলো।
" ভাইয়া! "
সাথে সাথে আয়াশ পিছনে ঘুরে তাকালো। ইশাকে দৌড়ে আসতে দেখে ভ্রু কুঁচকে জিজ্ঞেস করলো ------" কি হয়েছে? কিছু বলবি? "
ইশা ততক্ষণে আয়াশের কাছে চলে এসেছে। আয়াশের সামনে দাঁড়িয়ে বললো----
" তুমি কি বাইরে যাচ্ছো?"
" না, আমি তো ভিতরে যাওয়ার জন্য গাড়িতে উঠতে যাচ্ছি।
" আরে এভাবে বলছো কেন? আমি তো জাস্ট......
" ভনিতা না করে কি বলবি তাড়াতাড়ি বল। আমার কাজ আছে অনেক।
" বলছিলাম কি আজ বাইরে না গেলে হয়না? না মানে আমি চাইছিলাম যে আজ তোমার সাথে কিছু স.......
" এটা বলার জন্যই কি আমাকে আটকেছিস? আজাইরা। দেখলি যে মা'কে কতোটা কষ্ট করে বুঝিয়ে সুঝিয়ে আসলাম। আবার তুই আসলি নেকামি করতে? আজাইরা কথা বলার জায়গা পাস না আর তাই না?
" ভাইয়া আমি.....
কিন্তু ইশার কথা কানে না নিয়ে আয়াশ ততক্ষণে গাড়িতে উঠে গাড়ি স্টার্ট দিয়ে দিয়েছে। অনতিবিলম্বে গাড়ি চলতেও শুরু করেছে। মুহুর্তেই ইশার চোখ দুটো ছলছল করে উঠলো। শুধু কান্না আসা বাকি। আয়াশের কাছ থেকে সময় না পেয়ে যতোটা না কষ্ট পেয়েছে, তার চেয়ে দ্বিগুণ কষ্ট পেয়েছে আয়াশের কথাগুলো শুনে। আয়াশ কি করে পারলো এমন করে বলতে?? ও নাকি নেকামি করতে এসছিলো?? ও তো শুধু ওর সাথে একটু সময় কাটাতে চায় এটা বলতে এসেছিলো। ইশা আয়াশের কথাগুলো নিতে না পেরে চোখের জল ফেলতে ফেলতে দৌড়ে সোজা নিজের রুমে চলে আসলো। রুকসানা বেগম আর আনিসা বেগম দুজনে নিজেদের মধ্যে ব্যস্ত ছিলেন বিদায় ইশার দৌড়ে যাওয়াটা কেউ খেয়াল করেনি। রুমে এসেই ধপাস করে বিছানায় শুয়ে বিছানার চাদর আকড়ে ধরে ডুকরে কেঁদে উঠলো। ইশার খুব কষ্ট হচ্ছে আয়াশের এমন অবহেলা দেখে। ইশা যেন কিছুতেই আয়াশের অবহেলা গুলো নিতে পারছেনা। আবার কিছু সময় কাঁদার পর নিজেই নিজেকে বুঝ দিলো এই ভেবে যে, আয়াশ তো এখন সবসময় ব্যস্ত থাকে। ইনফ্যাক্ট ওর জন্যই তো আয়াশ আজকাল বেশির ভাগ সময় ব্যস্ত থাকে। আর ব্যস্ত থাকে বলেই তো সময় দিতে পারেনা ওকে। তাই না কেঁদে বরং রাতে বাড়ি ফিরলে তখন আয়াশের সাথে কথা বলবে। আর আজ যেহেতু শুক্রবার, নিশ্চয় আয়াশ তাড়াতাড়ি বাড়ি ফিরবে। তখন নিশ্চয় আয়াশ ওকে তাড়িয়ে দিবেনা। হ্যাঁ, এটাই ঠিক হবে। কথাগুলো ভেবে ইশা নিজেকে সান্তনা দিয়ে স্বাভাবিক হয়ে গেলো।
রাত ঠিক ৯টার দিকে আয়াশ বাড়ি ফিরেছে। সাথে অয়নও। ইশা তখন ড্রয়িংরুমের সোফায় বসে বসে আম্মু আর বড় আম্মুর সাথে গল্প করছিলো। আয়াশ আর অয়নকে বাড়ি ফিরতে দেখে মুখে এক চিলকি হাসি ফুটে উঠলো আপনা আপনি। এই তো আয়াশ চলে এসেছে। যেহেতু ১০টার আগে ডিনার করা হয়না, তাই আয়াশের সাথে এখন কথা বলা যাবে। তবে এখনই যাবেনা সে। এতে আয়াশ রেগে যেতে পারে। আগে আয়াশ ফ্রেশ হয়ে বের হোক। তারপর যাবে। কথাটা ভেবে ইশা সোফায় বসে রইলো। তারপর প্রায় মিনিট দশেক পর উঠে আয়াশের রুমের উদ্দেশ্যে হাঁটা ধরলো।
চলবে.......
®আয়মন সিদ্দিকা উর্মি
আপনাকে অনেক ধন্যবাদ হৃদয় জুড়ে শুধুই তুই ♥ || পর্ব - ৩১ || সেরা রোমান্টিক উপন্যাস || ভালোবাসার গল্প | AduriPakhi - আদুরি পাখি এই পোস্ট টি পড়ার জন্য। আপনাদের পছন্দের সব কিছু পেতে আমাদের সাথেই থাকবেন।
