আমাদের চ্যানেলে ঘুরে আসবেন SUBSCRIBE

আদুরি পাখি ওয়েবসাইটে আপনাকে স্বাগতম™

সম্মানিত ভিজিটর আসসালামুয়ালাইকুম : আমাদের এই ওয়েবসাইটে ভালোবাসার গল্প, কবিতা, মনের অব্যক্ত কথা সহ শিক্ষনীয় গল্প ইসলামিক গল্প সহ PDF বই পাবেন ইত্যাদি ।

  সর্বশেষ আপডেট দেখুন →

হৃদয় জুড়ে শুধুই তুই ♥ || পর্ব - ৩৮ || সেরা রোমান্টিক উপন্যাস || ভালোবাসার গল্প | AduriPakhi - আদুরি পাখি

Please wait 0 seconds...
Scroll Down and click on Go to Link for destination
Congrats! Link is Generated
হৃদয় জুড়ে শুধুই তুই 
পর্বঃ- ৩৮

__________
" ছোট নাকি ছাই। কথা তো বড় বড় বলতে পারে। কাকে কিভাবে কথা শুনাতে হয় কাকে কিভাবে মার খাওয়াতে হয় সেটা তো ও ভালো করেই জানে। তাহলে ছোট হয় কোন দিক থেকে? "

আনিসা বেগমের কথা শুনে রায়হান মাহমুদ কিছুটা রাগ মিশ্রিত কণ্ঠে বললেন--- " আনিসা! তুমি বোধহয় ভুলে যাচ্ছো আমি এখানে আছি। 

" না ভাইজান আমি একদম ভুলিনি। আর ভুলিনি বলেই ওকে কথাগুলো বলছি। আয়াশকে তো মেরেইছেন। আমাকেও নাহয় কয়েকটা চড় বসিয়ে দিন। 

" আনিসা! তুমি কি সব বলছো ভাইজানকে? এভাবে কথা বলছো কেন? "

স্বামীর কথায় আনিসা বেগম তাচ্ছিল্য হেসে বললেন---- " আমি যা বলছি একদম ঠিকই বলছি। আমি চাইনা ইশার কারণে আয়াশ কষ্ট পাক। "

তখনই অয়ন এসে চেয়ারে বসতে বসতে বললো--- "আন্টি! আয়াশ নাকি খাবেনা। বলেছে আমরা যেন খেয়ে নিই। আমি অনেক বলেছি, কিন্তু ও নিজের কথাতেই অটল। তাই আমি বাধ্য হয়ে চলে আসলাম। 

" কি বলো? আয়াশ খাবেনা বলেছে? এতো বড় একটা রাত ছেলেটা না খেয়ে থাকবে কি করে? আচ্ছা তোমরা সবাই খেয়ে নাও। আমি আয়াশের জন্য খাবার নিয়ে যাচ্ছি। "

আনিসা বেগমের কথা শুনে রুকসানা বেগম বলে উঠলেন----

" আনিসা! আমি তুমি আসলে একসাথে খাবো। 

" আচ্ছা ভাবি। "

এটা বলে আনিসা বেগম খাবার নিয়ে আয়াশের রুমে চলে গেলেন। 

" আয়াশ! "

আয়াশ চোখের উপর হাত রেখে শুয়েছিল। হঠাৎ ছোট মা'র কণ্ঠ পেয়ে চোখ খুলে তাকালো। 

" ছোট মা তুমি? "

" হ্যাঁ আমি। আমার ছেলেটা খাবেনা বলে রুমে বসে আছে। আর আমি না এসে থাকতে পারি? উঠ খাবার খাবি। 

" আমি তো অয়নকে বলেইছি আমি খাবোনা। ও বলেনি তোমাদের?

" খাবিনা বললেই হলো? উঠ আমি খাইয়ে দিবো। খাবার তো কোনো দোষ করেনি। খাবারের সাথে রাগ করছিস কেন? আয় বাবা উঠ। 

" আমি খাবারের সাথে রাগ করছিনা। আমার এমনিই ক্ষুধা নেই। তাই খেতে ইচ্ছে করছেনা। তুমি এগুলো নিয়ে যাও। 

" আয়াশ! এবার কিন্তু তুই আমার কথা শুনছিস না। মার খাবি বলে দিচ্ছি। উঠ তাড়াতাড়ি। 

" প্লিজ ছোট মা তুমি জোর করোনা। আমার সত্যিই খেতে ইচ্ছে করছে না। 

" তুই কি উঠবি নাকি মার খাবি? কোনটা? আরেকবার উঠ বলতে হলে কিন্তু সত্যি সত্যি মাইর দিবো। 

" ছোট মা তুমি শুধু শুধু রাগ করছো। আমি সত্যি বলছি আমার ক্ষুধা নেই। আচ্ছা ঠিক আছে তুমি যখন এতো করে বলছো আমি খাবো। তবে এখন না। তুমি খাবার গুলো রেখে চলে যাও। আমি ক্ষুধা লাগলে তখন খেয়ে নিবো। 

" কিন্তু যদি আমি চলে গেলে না খাস।

" ছোট মা প্লিজজজ। আমার এইটুকু কথা রাখো। 

" আচ্ছা ঠিক আছে আমি রেখে যাচ্ছি। খেয়ে নিবি কিন্তু। যদি সকালে দেখি যে তুই খাসনি তাহলে কিন্তু খবর আছে। "

আয়াশ কিছু বললোনা। শুধু মুচকি হাসলো। আনিসা বেগম নিচে আসতেই রুকসানা বেগম আগ্রহ ভরা কণ্ঠে জিজ্ঞেস করলেন-----

" আনিসা! খেয়েছে আয়াশ? "

আনিসা বেগম রুকসানা বেগমের পাশে এসে বসতে বসতে করুন স্বরে বললেন ----

" না ভাবি আপাতত খায়নি। অনেক বললাম। কিন্তু ওর নাকি ক্ষুধা নেই। অনেক জোরাজুরি করার পর রাজি হয়েছে। বলেছে আমি যেন রেখে চলে আসি। পরে ক্ষুধা লাগলে ও নিজে খেয়ে নিবে। তাই রেখে চলে এসেছি। 

" তোমার কি মনে হয়েছে? খাবে?

" খাবে বলেই তো মনে হলো। এখন বাকিটা আল্লাহয় ভালো জানে। আচ্ছা এসো আমরা খেয়ে নিই। "

অল্প সময়ের মধ্যে সবার খাওয়া ও শেষ হয়ে গেছে। কারণ আয়াশের অনুপস্থিতিতে সবার খাওয়ার ইচ্ছাটাই যেন মরে গেছে। রায়হান মাহমুদ নিজেও অল্প করে খেয়ে উঠে গিয়েছেন। ইশা ও কোনো রকম অল্প করে খেয়ে উঠে গিয়েছে। নিজের রুমে যাওয়ার পথে হঠাৎ ইশা কিছু একটা ভেবে মায়ের দিকে তাকালো। আনিসা বেগম তখন ডাইনিং পরিষ্কার করছিলেন। আনিসা বেগমকে কাজে ব্যস্ত দেখে ইশা তাড়াহুড়ো করে আয়াশের রুমে ঢুকে গেলো। 

" ভাইয়া! "

আয়াশ চোখের উপর হাত দিয়ে চোখ বন্ধ করে শুয়েছিল তখনও। হঠাৎ ইশার কণ্ঠ পেয়ে চোখের উপর থেকে হাতটা সরিয়ে চোখ মেলে তাকালো। 

" কি রে কিছু বলবি? "

ইশা এক নজর সেন্টার টেবিলের উপর তাকিয়ে দেখলো। খাবার গুলো এখনও ঢেকে রাখাই আছে। তার মানে আয়াশ খাবার খায়নি। ইশা আবারও চোখ সরিয়ে আয়াশের দিকে তাকিয়ে বললো---- 

" না খেয়ে শুয়ে আছো কেন? খাবার গুলো ঠান্ডা হয়ে যাচ্ছে তো। "

আয়াশ তাচ্ছিল্য হাসলো। তাচ্ছিল্য হেসে বললো ---"কুকুরকে কখনো প্লেটে করে খাবার খেতে দেখেছিস? আমি তো কুকুর। তাই প্লেটে করে খেতে ইচ্ছে করেনি। "

" ব ব আব ব আসলে ভা ভা ভাইয়া.... 

" রুমে যা। 

" ভা ভা ভাইয়া বলছিলাম যে....

" বললাম তো রুমে যা। মাথাটা গরম আছে। কখন কি বলে দিই ঠিক নেই। উল্টা পাল্টা কিছু বলে দিলে আবার বাবাকে গিয়ে বিচার দিবি। তখন আবারও একটা সিন ক্রিয়েট হবে। তার চেয়ে ভালো তুই রুমে যা। আর আমাকে একা থাকতে দে। 

" খাবার টা তো অন্তত..... 

" আমার খাওয়া নিয়ে তোকে টেনশন করতে হবেনা। তুই নিশ্চিন্তে রুমে যা। 

" ভাইয়া স......

আয়াশ এবার হাত দুটো জোড় করে অনুনয়ের স্বরে বললো--- " প্লিজ দয়া করে আমার রুমে থেকে যা। প্লিজজজ। "

 ইশা বুঝতে পারছে আয়াশ ওর সাথে কথা বলতে ইচ্ছুক নয়। আর যদি এর থেকে বেশি কিছু বলতে যায় তাহলে হিতে বিপরীত হতে পারে। তাই আর কোনো উপায় না পেয়ে ইশা শেষমেশ রুম থেকে চলে গেলো। আয়াশ উঠে খাবার গুলো নিয়ে বেলকনি দিয়ে নিচে ফেলে দিয়ে প্লেট টা ওয়াশরুম থেকে ভালো করে ধুয়ে আবারও আগের জায়গায় রেখে দিলো। যাতে কেউ ও খায়নি সেটা বুঝতে না পারে। বিশেষ করে ছোট মা যখন দেখতে পাবে ওর জন্য আনা খাবার গুলো যেভাবে এনেছিলো সেভাবেই রেখে দিয়েছে। তাহলে অনেক কষ্ট পাবে। আর মায়ের কথা তো বলার বাইরে। যদি জানতে পারে ও সারারাত না খেয়ে ছিলো, তাহলে কাঁদতে কাঁদতে অসুস্থ হয়ে যাবে। তাই আয়াশ সব দিক ভেবেই এমনটা করেছে।

রাত সাড়ে ১১টা কি ১২টা, সবাই যখন নিজ নিজ রুমে ঘুমে কাতর তখন অয়ন চুপিসারে প্রবেশ করলো আয়াশের রুমে। আয়াশ চোখ বন্ধ করে শুয়েছিলো। তাই অয়নের আসাটা ও টের পায়নি। অয়ন ধীর পায়ে হেঁটে আয়াশের বিছানার পাশে গিয়ে লাইটের সুইচটা চাপতেই রুমের লাইটটা জলে উঠলো। হঠাৎ চোখের উপর লাইটের আলো পড়তেই আয়াশ চোখ দুটো মেলে তাকালো। অয়নকে এতো রাতে ওর রুমে দেখে অবাক কণ্ঠে বললো -----

" অয়ন! তুই এতো রাতে এখানে? "

কথাটা বলে আয়াশ শোয়া থেকে উঠে বসলো। অয়ন মুচকি হেসে আয়াশের পাশে এসে বসলো। তারপর বললো----- 

" আমার আসাটা কি স্বাভাবিক নয়? 

" ভনিতা না করে সোজাসুজি বল কেন এসছিস?

" এসব কি হচ্ছে? 

" কোন সব?

" না বুঝার ভান করিস না। 

" যদি তুই সন্ধার বিষয়টা নিয়ে বলে থাকিস তাহলে বলবো আমার কিছু বলার নেই। তুই আসতে পারিস। 

" আমি পুরোটা শোনার আগে কোথাও যাচ্ছিনা। 

" কি শুনবি হ্যাঁ? বলেছি না আমার কিছু বলার নেই? যা আমার রুম থেকে যা। মাথা গরম আছে কিছু একটা বলে দিতে পারি। তাই বলছি আমার রুম থেকে চলে যা। 

" হাহাহাহা, তোর আমাকে ইশা মনে হয় যে তোর রাগ দেখে ভয়ে পালাবো? যতক্ষণ সত্যিটা বলবিনা ততক্ষণ তোর রুম থেকে যাবোনা। আমি আন্টির কাছ থেকে সব শুনেছি। এখন তুই বল কাল সারারাত ধরে সেবা করলি আর আজ কি এমন হয়ে গেছে যে তুই ইশাকে মারলি আবার মোবাইল ও ভেঙ্গে ফেললি? কি হয়েছে বল তো?"

আয়াশ বরাবরই অয়নের কাছ থেকে কিছু লুকাতে পারেনা। এখনও পারলোনা। কিছু সময় চুপ থেকে বলতে শুরু করলো----

" সন্ধায় আমি অফিস থেকে ফিরে ল্যাপটপে কাজ করছিলাম। কাজের মাঝখানে হঠাৎ আমার মোবাইলের মেসেজ টুনটা বেজে উঠে। কে না কে মেসেজ দিয়েছে ভেবে ফোনটা হাতে নিলাম। ফোন হাতে নিয়ে স্ক্রিনে তাকতেই দেখি মেসজ নয় বরং শাওন আমাকে দুইটা পিক পাঠিয়েছে। আমি কৌতূহল বশতঃ হোয়াটসঅ্যাপ ওপেন করে পিক দুটো দেখতে ঢুকলাম। সাথে সাথে পিক দুটো দেখে আমার এতোটা রাগ হয়েছিল যে বিশ্বাস কর এতোটা রাগ আমার এর আগে কখনো হয়নি। পিক দুটোতে কি ছিলো জানিস?

" কি ছিলো?

" রিয়ানকে তো চিনিসই। 

" হুম, তো? 

" ইশার সাথে ওর এ্যাফেয়ার চলছে।

" কিহ?

" এতো অবাক হচ্ছিস কেন? এখানে অবাক হওয়ার মতো কি আছে?

" তুই কি পাগল হয়েছিস? ইশা রিয়ানের সাথে সম্পর্ক করবে? আমি এটলিস্ট সেটা মানতে পারছিনা। আচ্ছা ইশা কি তোকে বলেছে সেটা?

" সেটা বলার কি বা বাকি রেখেছে? কারো সাথে একটা মানুষ সাচ্ছন্দ্যে দিনে দুই তিন বার চ্যাটিং করে। এমনকি ওকে নাম্বারও দিয়ে দিয়েছে। না জানি দিনে কতোবার ফোনে কথা বলে। আমি শাওনের পাঠানো স্ক্রিনশট দেখে অতোটা রেগে যেতাম না। যদি না আমি ইশার এ টু জেড মেসেজ গুলো দেখতাম। আমি শাওনের পাঠানোর স্ক্রিনশট গুলো দেখে ইশা আর রিয়ানের শুরু থেকে আজ পর্যন্ত ওদের মধ্যকার সব গুলো কনভার্সেশন দেখি। মেসেজ গুলো দেখে পরিষ্কার বুঝা যাচ্ছে ইশা রিয়ানের সাথে কথা বলতে পছন্দ করে। এখন তুই ই বল ওদের মধ্যে এ্যাফেয়ার না থাকলে কি কেউ কারো সাথে এভাবে রাত দিন কথা বলে? চ্যাটিং করে? আমার তো মনে হয়না।

" আচ্ছা আমাকে একটা কথা বল তো। তোকে শাওন ছবি গুলো দিয়েছে সেটা বুঝলাম। কারণ রিয়ানের সাথে ওর বন্ধুত্ব ছিলো। আর রিসেন্টলি সেটা শত্রুতে পরিণত হওয়ায় ওর গোপন তথ্যটা ফাঁস করেছে শাওন। বাট তুই ওদের এ টু জেড মেসেজ গুলো দেখলি কি করে?

" আমাকে কি তোর বোকা মনে হয়? ইশা ফেসবুক ইউজ করবে আর আমার কাছে ওর ফেসবুকের পাসওয়ার্ড থাকবেনা এটা কি কখনো হয়? আমি যেদিন জানতে পেরেছি ও ফেসবুক ইউজ করে সেদিনই আমি ওর অজান্তে ওর ফেসবুকের পাসওয়ার্ডটা নিয়ে নিই। আর আমার মোবাইলে লগইন করে রাখি। যাতে ইশাকে অবজার্ভ করতে পারি। 

" ওওও বুঝলাম। বাট কড়া সিকিউরিটির পরেও এই দূর্ঘটনাটা ঘটলো কি করে?

" মাঝখানে কয়েক মাস অতিরিক্ত ব্যস্ততার কারণে চেক করতে পারিনি। তার মধ্যেই হয়ে গেছে। তুই জানিস? রিয়ানের সাথে ও সম্পর্কে জড়িয়েছে সেটা জানতে পেরে ওকে শাসন করতে গেলে বলে নাকি আমার দোষ। আমি নাকি ওকে এনাফ টাইম দিই না তাই অন্য ছেলের সাথে কথা বলে। আমি তারপরেও ওকে কিছু বলিনি। চেয়েছিলাম একটা বার সুযোগ দিবো। কিন্তু ও কি বলেছে জানিস? আমি যদি আমার পজিশন ছেড়ে দিয়ে রিয়ানকে পজিশন করিয়ে দিই তাহলেই ও রিয়ানের সাথে সম্পর্কটা রাখবেনা। নয়তো ও রিয়ানের সাথে সম্পর্কটা চালিয়ে যাবে। বিশ্বাস কর, আমার পজিশন ছাড়তে বলা তে ও কোনো রাগ হয়নি। রাগ হয়েছে কেন জানিস? আমাদের বিয়েটা নাকি ও মানে না। আর মানবেও না। কথাটা শোনার পর আর নিজের রাগটা কন্ট্রোল করতে পারিনি। রাগের বসে একটা চড় দিয়ে ফেলেছি। আর মোবাইলটাও আছাড় দিয়ে ভেঙ্গে ফেলেছি। কিন্তু একটা চড় যে আমার উপর চার গুণ হয়ে পড়বে আমি কল্পনাও করিনি অয়ন বিশ্বাস কর। আমি এর আগে অনেকবার ইশাকে মেরেছি। আর ওর কতো শত সখের জিনিস যে আমি ভেঙ্গেছি বা নষ্ট করেছি তার তো কোনো হিসাবই নেই। কিন্তু কই ইশা তো আগে এমন রিয়েক্ট করেনি? কই তখন তো বাবাকে বিচার দেয়নি? তাহলে আজ কেন? তুই এর পরেও বলবি ইশা সম্পর্কে জড়ায়নি? তুই জানিস আমাদের বিয়েটা হয়ে যাওয়ার পর আই মিন রেজিস্ট্রি টা কমপ্লিট হয়ে যাওয়ার পর ও আমাকে ভাইয়া ডেকেছে বলে আর তুই করে বলেছিলো বলে আমি ওকে অনেক জোরে কামড় দিয়ে দিয়েছিলাম। রাগের বসে কামড়টা বেশ জোরেই পড়েছিল। যার দরুন ঘাড়ে কামড় দেওয়া অংশটিতে দাঁত বসে রক্ত জমাট বেঁধে যায়। আঘাতটা দেখে আমি নিজেই আঁতকে উঠেছিলাম। সেই সাথে ভয় ও পেয়ে ছিলাম এই ভেবে যে ও বাবাকে বলে দেয় কিনা বিষয়টা। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো ও এমন আঘাত পাওয়া স্বত্বেও ব্যাপারটি কাউকে জানতে দেয়নি। যেই মেয়ে ১ সপ্তাহ ধরে একটা কামড়ের আঘাত সহ্য করে ফেলেছে কাউকে বুঝতে দেয়নি। সেই কিনা আজ আমার একটা চড় সহ্য করতে পারেনি। সোজা বাবার কাছে গিয়ে বিচার দিলো। বুঝতে পারছিস কিছু? 

" এখন তাহলে কি হবে? আই মিন তুই তো বলেছিলি ইশা যদি বলে যে ও বিয়েটা মানতে চাইনা তাহলে তোদের বিয়েটা আর থাকবেনা। তার মানে এখন নিশ্চয় বিয়েটা আর নেই?

" রেজিস্ট্রি পেপার অনুযায়ী তো নেই। 

" তাহলে এখন কি করবি ভেবেছিস? 

" আয়াশ কখনো কিছু ভাবেনা। উল্টো ভাবায়। যার ভাবার সেই ভাববে। আমি কেন কিছু ভাববো? কেউ যদি আমাকে ছাড়া ভালো থাকে তাহলে থাকুক। আমার কোনো প্রবলেম নেই। 

" আয়াশ! এই কথা তুই বলছিস?

" হুম, বলছি। 

পরের দিন,,  রুকসান বেগম আর আনিসা বেগম কিচেনে সকালের নাস্তা রেডি করছিলেন। আর ইশা এবং অয়ন সোফায় বসে বসে মোবাইল টিপছে নিজেদের মতো করে। কারণ এখনও সবাই আসেনি। তাই ওরা দুজনেই ডাইনিংয়ে না বসে সোফায় বসে টাইম পাস করছে। বলা চলে অন্যদের আসার জন্য অপেক্ষা করছে। তখনই আয়াশ সিঁড়ি দিয়ে নামতে নামতে তাড়াহুড়ো কণ্ঠে বললো ----

" মা! ছোট মা! নাস্তা দাও। খুব ক্ষুধা লেগেছে। " 

 বলতে বলতে আয়াশ ডাইনিংয়ে এসে বসে পড়লো। রুকসানা বেগম আর আনিসা বেগম দুজনেই আয়াশের গলার স্বর শুনে বেশ খুশি হলেন। কারণ আয়াশের কণ্ঠ শুনে মনে হচ্ছে আয়াশ কালকের বিষয়টা নিয়ে এখন আর আপসেট না। তাই দুই জা-ই আয়াশের মুখখানা দেখার জন্য আয়াশের দিকে তাকালেন। উনাদের ধারণাই ঠিক। আয়াশকে বেস ফুরফুরে দেখাচ্ছে। আয়াশকে এভাবে হাসি খুশি দেখে দুজনেই খুশি হলেন অনেক। রুকসানা বেগম হেসে বললেন---- " আনিসা! যাও আয়াশকে খাবারটা দিয়ে আসো। "

আনিসা বেগম হেসে বললেন---- " ভাবি! আমার মনে হয় তোমারই যাওয়া উচিত। "

" আরে কিছু হবেনা তুমি যাও। আমি তো এমনিতেই এই গুলো নিয়ে আসছি। 

" ভাবি! একদম না। সব গুলো প্লেট তুমি একা নিতে পারবেনা। আমি আয়াশের গুলো দিয়ে এসে দুজনে নিয়ে যাবো। একা নেওয়ার দরকার নেই। 

" আচ্ছা ঠিক আছে। "

আনিসা বেগম আয়াশের খাবার গুলো নিয়ে কিচেন থেকে বেরিয়ে ডাইনিংয়ে এসে আয়াশের সামনে খাবার গুলো রেখে দুষ্টু হেসে বললেন ---

" কি ব্যাপার! আজ ক্ষুধা একটু বেশি লেগেছে মনে হচ্ছে?  সবার আগেই খাবার চাইলি। "

আয়াশ আনিসা বেগমের কথায় আয়াস হাসলো। হেসে বললো --- " আরে ছোট মা কি যে বলোনা! মানুষের বুঝি ক্ষুধা লাগতে পারেনা? "

" আমি কি একবারও বলেছি লাগেনা? 

" সেটা বলোনি। বাই দা ওয়ে, আচ্ছা মা কি কিচেনে?

" হুম, ডাকবো?

" না না ডাকতে হবেনা। তুমি শুধু এইটা বলো যে মা কোনো রকম মন খারাপ করে নেই তো? "

লাস্ট কথাটা আয়াশ একটু আস্তে করেই বললো। যাতে রুকসানা বেগম শুনতে না পারে। আনিসা বেগমও এক নজর কিচেনের দিকে তাকিয়ে আবারও আয়াশের দিকে তাকিয়ে বললেন----- 

" না, মন খারাপ করে নেই। তবে কাল ভাইজানের কাজ দেখে অনেক মন খারাপ করেছিলো। অনেক কেঁদেও ছিলো। বলছিলাম কি তুই ভাবিকে পাশে বসিয়ে আজ ভাবির হাতে খাইয়ে দিতে বল। আর ভাবিকেও তুই খাইয়ে দে। তাহলে দেখবি ভাবি অনেক খুশি হবে। তুর জন্য অনেক কষ্ট পেয়েছে কাল। আমার তো সকালে ভাবির মুখ দেখে মনে হয়েছে ভাবি কাল সারারাত ঘুমায়ওনি। তাই আমার কথাটা রাখ। ভাবি অনেক খুশি হবে। মায়ের মন তো, ছেলের একটু আহ্লাদ দেখলে অনেক আনন্দিত হবে।

চলবে........
®আয়মন সিদ্দিকা উর্মি

আপনাকে অনেক ধন্যবাদ হৃদয় জুড়ে শুধুই তুই ♥ || পর্ব - ৩৮ || সেরা রোমান্টিক উপন্যাস || ভালোবাসার গল্প | AduriPakhi - আদুরি পাখি এই পোস্ট টি পড়ার জন্য। আপনাদের পছন্দের সব কিছু পেতে আমাদের সাথেই থাকবেন।

إرسال تعليق

Cookie Consent
We serve cookies on this site to analyze traffic, remember your preferences, and optimize your experience.
Oops!
It seems there is something wrong with your internet connection. Please connect to the internet and start browsing again.
AdBlock Detected!
We have detected that you are using adblocking plugin in your browser.
The revenue we earn by the advertisements is used to manage this website, we request you to whitelist our website in your adblocking plugin.
Site is Blocked
Sorry! This site is not available in your country.
A+
A-
দুঃখিত লেখা কপি করার অনুমতি নাই😔, শুধুমাত্র শেয়ার করতে পারবেন 🥰 ধন্যবাদান্তে- আদুরি পাখি