আমাদের চ্যানেলে ঘুরে আসবেন SUBSCRIBE

আদুরি পাখি ওয়েবসাইটে আপনাকে স্বাগতম™

সম্মানিত ভিজিটর আসসালামুয়ালাইকুম : আমাদের এই ওয়েবসাইটে ভালোবাসার গল্প, কবিতা, মনের অব্যক্ত কথা সহ শিক্ষনীয় গল্প ইসলামিক গল্প সহ PDF বই পাবেন ইত্যাদি ।

  সর্বশেষ আপডেট দেখুন →

খলনায়িকা | পর্ব - ৩০ | ভালোবাসার রোমান্টিক উপন্যাস | ভালোবাসার গল্প | Aduri Pakhi - আদুরি পাখি

Please wait 0 seconds...
Scroll Down and click on Go to Link for destination
Congrats! Link is Generated
"রায়হান ভাইয়া প্লিজ আমার কথা শুনুন একবার"
মেঘলা চলে যেতেই কুয়াশা কাতর গলায় অনুরোধ করলো রায়হানকে।

রায়হান তার দিকে এগিয়ে এসে পায়ের রশি খুলতে খুলতে বললো,
"অনেক দেরি করে ফেলেছো কুয়াশা। এখন কথা বলে কি হবে?তুমি যদি শুরু থেকেই আমার প্রস্তাবে রাজি হয়ে যেতে,যদি তোমার জন্য শুভ্র আমার পরিবারের ব্যবসাতে ক্ষতির সৃষ্টি না করতো তাহলে আজকে এমন পরিস্থিতি কখনো সৃষ্টি হতো না। সব দোষ তোমার এখানে কুয়াশা"

কুয়াশা নিজেকে শান্ত করার জন্য জোরে একটা শ্বাস টানলো,
"কিন্তু আপনার কি মনে হয় এসব করে আপনি পার পেয়ে যাবেন?পুলিশ সবার আগে আপনাকেই এরেস্ট করবে"

রায়হান বাঁকা হাসলো,
"শুনলে না মেয়েটা কি বললো?ওকে শুধু আমি গুন্ডা ভাড়া করার টাকা দিয়েছি,তাও ক্যাশে। ওর কাছে কোনো প্রমাণ নেই আমি ওকে দিয়ে তোমাকে কিডন্যাপ করেছি। পুলিশ আমাকে কখনো ধরতে পারবে না"

কুয়াশা হেসে ফেললো এবার। রায়হান কুয়াশার হাসি দেখে ভ্রু কুঁচকে বললো,
"এই পরিস্থিতিতেও তোমার হাসি পাচ্ছে?"

কুয়াশা বিদ্রুপের সুরে বললো,
"আমি হাসছি আপনার বোকামির উপর। ওই মেয়েটা বললো আর আপনি বিশ্বাস করে নিলেন?ও আপনার মাধ্যমে নিজের কাজ সিদ্ধি করে আপনাকে ফাঁসিয়ে দিতে চাইছে,আপনি বুঝতে পারছেন না?"

"ও কেনো আমাকে ফাঁসাতে চাইবে?ওর আমার সাথে কোনো শত্রুতা নেই",রায়হান যুক্তি দেখালো।

কুয়াশা পাল্টা যুক্তি দাঁড় করিয়ে বললো,
"আপনি কখনো ভেবে দেখেছেন ওই মেয়ের এতো কিসের শত্রুতা আমার সাথে?আপনি তো আমাকে ছোট থেকে চিনেন,কখনো এই মেয়ের সাথে দেখেছেন আমাকে?"

রায়হানের মনে মনে সবসময় একটা খটকা ছিলো এই বিষয়ে,তখন প্রতিশোধ নেওয়ার চিন্তায় এতোই মগ্ন ছিলো যে সে ব্যপারটা তেমন আমলে নেয়নি। কিন্তু কুয়াশার মুখ থেকে সেই অব্যক্ত সন্দেহের কথা শুনে তার মনে আবার সন্দেহের বীজ মাথা চাড়া দিয়ে উঠলো,
"কি বোঝাতে চাইছো তুমি?"

"আপনি কখনো চিন্তা করেছেন সেদিন ওই পেনড্রাইভ টা আপনাকে কে পাঠিয়েছে?ওই মেয়েটা। সে সেদিনও আপনার মাধ্যমে আমার উপর রিভেঞ্জ নেওয়ার চেষ্টা করেছে। তাতে সে সফলও হয়েছে। দিনশেষে কেউ তার টিকিটিও ছুঁতে পারেনি। শাস্তি পেয়েছে আপনার পরিবার। এবারও ঠিক এমনটাই হবে"

রায়হানের কপালে ভাঁজ পড়লো এমন কথা শুনে,
"কি বলছো তুমি?তুমি কি করে জানলে?"

"আমি কি করে জানলাম সেটা মূল বিষয় না এখানে। আপনি একটু ঠান্ডা মাথায় ভেবে দেখুন। আমার লাশ পাওয়া গেলে পুলিশ সবার আগে চেক করবে আমার সাথে কারো শত্রুতা আছে কিনা। আর আমার সাথে রিসেন্ট হিস্ট্রি রয়েছে আপনার পরিবারের সাথে। তাহলে সবার আগে পুলিশ গ্রেফতার কাকে করবে?আপনাকে আর আপনার পরিবারকে।"

"প্রমাণ ছাড়া পুলিশ আমাদের আটকে রাখতে পারবে না",রায়হান কম্পমান গলায় বললো।

"হয়তো পারবে না। বছর কয়েক কোর্টে কেস চলবে,তারপর আপনাদের বিরুদ্ধে প্রমাণ না থাকায় আপনারা ছাড়া পেয়ে যাবেন। কিন্তু মানুষের চোখে আপনারা ই খু'নী থেকে যাবেন। আপনাদেরই সম্মান নষ্ট হবে। তাছাড়া আমাকে আমার বাবা কতটা ভালোবাসেন জানা আছে নিশ্চয়?আপনার কি মনে হয় উনার একমাত্র মেয়েকে হারিয়ে উনি চুপচাপ বসে থাকবেন? উনি উনার সর্বোচ্চ লাগিয়ে হলেও আপনাদের বরবাদ করে দিবেন। এবার বলুন, সামান্য রিভেঞ্জের জন্য নিজের এবং নিজের ফ্যামিলির ভবিষ্যৎ নষ্ট করা কতটা যুক্তিগত? অথচ আপনার তুলনায় এই মেয়েটার কথা চিন্তা করে দেখুন। কেউ তাকে চিনেনা,ওকে কারো সন্দেহ করার প্রশ্নই আসেনা। কেউ বিশ্বাস করবে না ও নিজের টাকা দিয়ে গুন্ডা ভাড়া করে আমাকে মে'রেছে। কারণ সে আর্থিকভাবে সচ্ছল না। আর যদি আপনি স্বীকারোক্তি দেন ওর বিরুদ্ধে যে আপনি ওকে টাকা দিয়েছেন আমাকে তুলে আনার জন্য,তাহলে তো আপনি নিজের মুখেই স্বীকার করে নিলেন যে আপনি ই এসব করেছেন। এর পরিণতি হয় ফাঁসি নয়তো যাবজ্জীবন কারাদণ্ড"

রায়হানের সারা শরীর ঘামতে শুরু করেছে আতঙ্কে। আসলে প্রতিশোধ নেওয়ার চক্করে এতটা বিষদভাবে সে কখনো ভেবে দেখেনি পুরো বিষয়টা। কিন্তু কুয়াশার কথার পেছনে যুক্তি রয়েছে। খুব কাঁচা কাজ করে ফেলেছে সে। সে শুকনো ঢুক গিলে বললো,
"কিন্তু তুমি অলরেডি আমাদের চেহারা দেখে ফেলেছো। তোমাকে ছেড়ে দিলেও তো আমাকে জেলে যেতে হবে"

কুয়াশা মনে মনে আশার আলো দেখতে পেলো,এই যাত্রায় হয়তো সে এখান থেকে পালিয়ে যেতে পারবে। সে তড়িঘড়ি করে বললো,
"যেতে হবেনা আপনাকে জেলে। চলুন একটা ডিল করি নিজেদের মধ্যে। আমি এখান থেকে বের হয়ে আপনার নাম নিবো না। আমি বলবো আমাকে এই মেয়েটা কিডন্যাপ করেছে মোটা অঙ্কের মুক্তিপণ পাওয়ার লোভে। আপনি চুপচাপ থাকবেন যেনো এই ঘটনা সম্পর্কে আপনি কিছুই জাবেন না। যেহেতু মেয়েটার সাথে আপনার যোগাযোগের কোনো রেকর্ড নেই,তাহলে সে শতবার বললেও কেউ বিশ্বাস করবে না আপনি ওর সাথে জড়িত। বিশেষ করে আমি ভিক্টিম হয়ে যেখানে আপনার নাম নেবো না"

রায়হান জিভ দিয়ে ঠোঁট ভিজিয়ে বললো,
"কিন্তু আমি তোমাকে কতটুকু বিশ্বাস করতে পারি?এমনও তো হতে পারে এখান থেকে বেরিয়ে তুমি আমাদের দুজনকেই ফাঁসিয়ে দিলে"

"আমি শুধু আপনাকে আমার উপর বিশ্বাস রাখার জন্য রিকুয়েষ্ট করতে পারি। দেখুন,আমার সাথে আপনার কোনো প্রকার শত্রুতা নেই। সম্পর্কে তিক্ততা আপনারা সৃষ্টি করেছেন,কিন্তু আমি কখনো প্রতিশোধ নেওয়ার চেষ্টা করিনি আপনাদের উপর। এবারও যদি আমার কোনো ক্ষতি করা ছাড়া আমাকে যেতে দেন আমি কখনো প্রতিশোধ নেওয়ার চেষ্টা করবো না। আমি কথা দিচ্ছি আপনাকে যে আপনার নাম আসবে না। আর তাছাড়া ভেবে দেখুন,আমি সুস্থ শরীরে ফিরে গেলে আমার বাবা এবং শুভ্র অন্তত আপনার পরিবারকে পথে বসিয়ে ছাড়বে না,এটুকু কিন্তু নিশ্চিত। আর আমি আরও কথা দিচ্ছি যে আমি শুভ্রকে বলবো যাতে আপনাদের সাথে ভবিষ্যতে যেনো কোনো প্রকার সমস্যার সৃষ্টি না করে। কি বলেন আপনি?"

রায়হান নার্ভাস হয়ে এদিক সেদিক পায়চারি করতে শুরু করে,গভীর ভাবনায় মগ্ন সে। কুয়াশা মনে মনে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললো। রায়হানকে সে ভাবতে বাধ্য করেছে,এটা একটা পজেটিভ সাইন। একবার রায়হান রাজি হলে সে সহজেই এই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে পারবে।
রায়হান পায়চারি থামিয়ে কুয়াশার সামনে এসে হাঁটু গেড়ে বসে ইতস্ততভাবে বললো,
"দেখো কুয়াশা,আমি কখনো তোমাকে মে'রে ফেলতে চাইনি। ইনফ্যাক্ট তোমাকে কিডন্যাপ করার চিন্তাও কখনো আমার মাথায় আসেনি। এই মেয়েটা হঠাৎ আমার সামনে এসে নিজের কথার জালে ফাঁসিয়ে আমার ব্রেইনওয়াশ করেছে। আমি জানি আমি ভুল করেছি,আর আমি অনুতপ্ত। তাই প্লিজ আমাকে কথা দাও,এইবারের মতো সত্যিই তুমি আমাকে ফাঁসাবে না? কসম লাগে,এরপর থেকে আমি কখনো তোমার ছায়াও মাড়াবো না"

কুয়াশা দৃঢ় কন্ঠে বললো,
"আমি কথা দিচ্ছি রায়হান ভাইয়া"

রায়হান ফোঁস করে শ্বাস টানলো। তারপর কাঁপা কাঁপা হাতে একে একে কুয়াশার সকল বন্ধনী খুলে দিলো। কুয়াশা রায়হানের নীরব সম্মতি পেয়ে এবার আসন্ন বিপদের উপর মনোযোগ দিলো,
"এই জায়গাটা কোথায়?মেইন রোড কত দূরে?"

রায়হান ফিসফিস করে বললো,
"এটা একটা গুদামঘর এই গুন্ডাগুলোর। শহরের শেষ মাথায় একেবারে,হয়তো এসব কাজের জন্যই এই আস্তানা তৈরি করেছে এরা। জঙ্গল এর মতো জায়গাটা। কিন্তু বাইরে বেড়িয়ে একটা ছোট্ট ট্রেইল দেখতে পাবে। ওটা ধরে এগোলেই বড় রাস্তার পৌছে যাবে"

কুয়াশা গা ঝাড়া দিয়ে উঠে দাঁড়ালো। বাইরে অকাট্য নীরবতা। বোঝার উপায় নেই সে গুন্ডাদের আস্তানায়। সে ইতস্ততভাবে জিজ্ঞেস করলো,
"বাইরে কয়জন আছে?"

"আপাতত এখানে শুধু দুইজন পাহারা দেওয়ার জন্য আছে,সাথে মেঘলা"

"কোনো সমস্যা হবেনা তো?"

"বাইরে বের হয়ে তুমি সোজা চলে যেও,এখানে আমি সামলে নিবো", রায়হান অশ্বাস দিলো কুয়াশাকে।

কুয়াশা মাথা দুলিয়ে সম্মতি দিলো। রায়হান তাকে সাথে নিয়ে দড়জা খুলে বাইরে আসতেই মুখোমুখি হয় মেঘলার সাথে। দুই হাত আড়াআড়িভাবে পেছনে রেখে মেঘলা ওদের দুজনকে পরখ করলো,তারপর রায়হানের উদ্দেশ্যে বললো,
" এতক্ষণ হয়ে যাওয়ার পরেও ভেতর থেকে যখন কোনো চিল্লাচিল্লির শব্দ আসছিলো না,তখনই কিছুটা সন্দেহ হচ্ছিলো আমার কোনো গন্ডগোল হয়েছে। কিন্তু তোমার মুখ থেকে শুনতে চাই আমি,মতলব কি তোমার রায়হান?"

মেঘলা এক পা দুই পা করে এগিয়ে এলো রায়হানের দিকে। এদিকে কুয়াশা জরিপ করে দেখলো গুন্ডা দুজন তার দিকে এগিয়ে আসতে চাইছে। সে তখনই রায়হানকে ইশারা করলো। রায়হান ওর ইশারা পেয়ে ওদের দুজনকে উদ্দেশ্য করে বললো,
"আমি এই প্ল্যানটা আর কন্টিনিউ করতে চাইনা তোমাদের পাওনা টাকা তোমরা পেয়ে যাবে। কুয়াশা তুমি যাও।"

কুয়াশা সাথে সাথে দড়জার কাছে দৌড়ে গেলো। দড়জার বাইরে যেতেই পেছন থেকে রায়হানের আর্ত'নাদ শুনে থমকে যায় কুয়াশা। পেছনে ফিরে যে দৃশ্য দেখলো সে তার জন্য সে মোটেই প্রস্তুত ছিলো না। মেঘলা রায়হানের পেটে ছুড়ি চালাচ্ছে। কুয়াশা আতঙ্কে সেখানেই জমে যায়। একমুহুর্তের জন্য সে নড়াচড়া করার শক্তিই হারিয়ে ফেলে। তার সম্বিৎ ফিরে যখন  মেঘলা কুয়াশার দিকে র'ক্তমাখা ছুড়ি হাতে ফিরে তাকায় এবং গুন্ডাদের আদেশ করে,
"এই ধর ওকে!"

সম্বিৎ ফিরতেই মৃ'ত্যুভয়ে কুয়াশার পদযুগল নিজ থেকেই চলতে শুরু করে। দিগবিদিক ভুলে সে সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে দৌড়াতে থাকে। পেছন থেকে ওদের তিনজনের পদধ্বনি শুনতে পাচ্ছে সে। মেঘলা রায়হানের পেটে ছুড়ি চালাতে দুইবার ভাবেনি,ওদের হাতে পড়লে তার মৃ'ত্যু সুনিশ্চিত। কুয়াশা পায়ের গতি বাড়িয়ে দেয়। 
রাতের অন্ধকারে জংলী পথ ধরে দৌড়াতে বেশ কষ্ট হচ্ছে কুয়াশার৷ তবে অন্ধকারের একটা সুবিধা হলো এখানে সহজে আত্মগোপন করা যায়। কুয়াশা রাস্তার কাছাকাছি এসে ঝোঁপের আড়ালে লুকিয়ে পড়ে। দৌড়াতে দৌড়াতে হাঁপিয়ে উঠেছে সে। পুরো রাস্তা দৌড়াতে গেলে একসময় তাদের হাতে ধরা পড়া নিশ্চিত।

কুয়াশা ঝোপের আড়ালে শ্বাস আটকে বসে আছে। এদিকে মেঘলা আর তার দুই গুন্ডাও এসে পড়েছে। মেঘলা এদিক সেদিক তাকিয়ে চেঁচিয়ে উঠলো,
"কোথায় গেলো মা**টা?"

এক গুন্ডা বললো,
"এদিকেই তো এসেছিলো দেখলাম"

দ্বিতীয় গুন্ডা বললো,
"কোনো গাড়ি পেয়ে উঠে যায়নি তো?"

"অসম্ভব। এই জায়গায় কেউ অপরিচিত কাউকে লিফট দেয়না"

মেঘলা দাঁত কিড়মিড় করে বললো,
"এখানেই কোথাও লুকিয়ে আছে। পালিয়ে যাবে কোথায়?এখানে বকবক না করে যাও গিয়ে খুঁজো!"

"খুঁজে নাহয় দিলাম। কিন্তু তোমার কাছে পেমেন্ট দেওয়ার টাকা আছে তো?ওই সাহেবকে তো মে'রে দিলে"

মেঘলা বিরক্তি নিয়ে বললো,
"ওকে ধরে আনো,দ্বিগুণ পাবে টাকা। আমার বড় ঘরে বিয়ে হতে চলেছে,বোনাসও দিবো কাজ ঠিকঠাক হলে। কিন্তু ওকে না পেলে কোনো টাকা পাওয়ার কথা ভুলে যাও"

দুই গুন্ডা একে অপরের মুখ চাওয়া চাওয়ি করে অবশেষে খুঁজতে লেগে পড়লো। মেঘলাও খুঁজতে লাগলো ঝোপঝাড়গুলোর মধ্যে।

কুয়াশা শুকনো ঢুক গিললো। এভাবে বেশিক্ষণ লুকিয়ে বাঁচতে পারবে না সে। ফোনটাও নেই তার কাছে। এদিকে রাস্তা দিয়ে সাঁই করে একটা প্রাইভেট কার চলে গেলো। এখান থেকে না বেরোলে সে পালাতে পারবে না। 
দুই গুন্ডা অন্যদিকে চলে গেছে,মেঘলা তার ঝোপের বিপরীত দিকে। এই সুযোগে কুয়াশা হামাগুড়ি দিয়ে বেড়িয়ে এসে রাস্তার উপর উঠে যায়। 
কিন্তু দুর্ভাগ্য তার পিছু ছাড়েনা। মেঘলা তাকে সাথে সাথে দেখে ফেলে তার দিকে দৌড়ে আসে। কুয়াশা প্রাণপণে ছুটতে থাকে। কিন্তু তার শরীরে এখনো ওষুধের প্রভাব থাকায় সে ভালোভাবে ছুটতে পারছিলো না। এখানে অন্ধকারও নেই তাকে লুকিয়ে রাখার জন্য। তাই মেঘলা কুয়াশাকে কয়েক মুহুর্তেই ধরে ফেলে। 

মেঘলা কুয়াশার পেটে ছুড়ি চালাতে চাইলে কুয়াশা খপ করে সেটা ধরে ফেলে। তার হাত কে'টে অঝোরে র'ক্ত গড়াতে থাকে। শুরু হয়ে যায় দস্তাদস্তি। কুয়াশা দুর্বল হলেও সে সহজে মেঘলাকে তার পেটে ছুড়ি চালাতে বাধা দেয়। ফলে মেঘলা তার কার্যসিদ্ধি করতে পারছে না। তবে কুয়াশার শরীরের বিভিন্ন জায়গায় ছুড়ির আঘাতের ফলে কেটে র'ক্ত গড়াচ্ছে। সময়ের সাথে মেঘলা ধৈর্য হারাতে থাকে। এই মুহুর্তে সে কুয়াশার মৃ'ত্যু চায় শুধু।

ঠিক ওই সময় রাস্তা ধরে একটা প্রাইভেট কারকে ফুল স্পিডে এগিয়ে আসতে দেখে মেঘলা। তার মাথায় নতুন বুদ্ধি ভর করতেই পৈশাচিক হাসি হাসে সে। কুয়াশার মনোযোগ তখনও ছুড়ির উপর। র'ক্ত হারিয়ে সে প্রায় নিস্তেজ। গাড়িটা কাছাকাছি এগিয়ে আসতেই মেঘলা আচমকা কুয়াশাকে ধাক্কা দেয় গাড়ির সামনে।
কুয়াশা আচমকা ধাক্কা দেওয়ায় নিজের তাল সামলাতে ব্যর্থ হয়। যতক্ষণে সে বুঝতে পারে কি হচ্ছে,ততক্ষণে গাড়ির হেডলাইট দুটো তার খুব কাছাকাছি এসে পড়েছে। সরে যাওয়ার সুযোগ তার ছিলো না,না ছিলো চালকের গাড়ি থামানোর। মুহুর্তেই একটা ধাক্কা,সারা শরীরে অসহ্য ব্যথা অনুভব হওয়ার পর কুয়াশা চোখের সামনে গাঢ় অন্ধকার পর্দা নেমে আসে।

(চলবে)

আপনাকে অনেক ধন্যবাদ খলনায়িকা | পর্ব - ৩০ | ভালোবাসার রোমান্টিক উপন্যাস | ভালোবাসার গল্প | Aduri Pakhi - আদুরি পাখি এই পোস্ট টি পড়ার জন্য। আপনাদের পছন্দের সব কিছু পেতে আমাদের সাথেই থাকবেন।

Post a Comment

Cookie Consent
We serve cookies on this site to analyze traffic, remember your preferences, and optimize your experience.
Oops!
It seems there is something wrong with your internet connection. Please connect to the internet and start browsing again.
AdBlock Detected!
We have detected that you are using adblocking plugin in your browser.
The revenue we earn by the advertisements is used to manage this website, we request you to whitelist our website in your adblocking plugin.
Site is Blocked
Sorry! This site is not available in your country.
A+
A-
দুঃখিত লেখা কপি করার অনুমতি নাই😔, শুধুমাত্র শেয়ার করতে পারবেন 🥰 ধন্যবাদান্তে- আদুরি পাখি