আমাদের চ্যানেলে ঘুরে আসবেন SUBSCRIBE

আদুরি পাখি ওয়েবসাইটে আপনাকে স্বাগতম™

সম্মানিত ভিজিটর আসসালামুয়ালাইকুম : আমাদের এই ওয়েবসাইটে ভালোবাসার গল্প, কবিতা, মনের অব্যক্ত কথা সহ শিক্ষনীয় গল্প ইসলামিক গল্প সহ PDF বই পাবেন ইত্যাদি ।

  সর্বশেষ আপডেট দেখুন →

হৃদয় জুড়ে শুধুই তুই ♥ || পর্ব - ২২ || সেরা রোমান্টিক উপন্যাস || ভালোবাসার গল্প | AduriPakhi - আদুরি পাখি

Please wait 0 seconds...
Scroll Down and click on Go to Link for destination
Congrats! Link is Generated
হৃদয় জুড়ে শুধুই তুই 
পর্বঃ- ২২

_________
" বিয়েতে যাবি? নাকি রেখে চলে যাবো?? কোনটা??"

আয়াশের কথা শুনে ইশা মুখটা কাচুমাচু করে বললো---- " সামান্য সুইটারের জন্য আমাকে রেখে চলে যাবে?? তুমি এতোটা নিষ্ঠুর?? "

" হ্যাঁ আমি নিষ্ঠুর। এখন যা সুইটার নিয়ে আয়। আর লাগেজটাও নিয়ে আসিস। আমার কাপড় নিতে হবে। "

ইশাও জানে আয়াশের কথা না শুনে উপায় নেই। তাই বাধ্য হয়ে সুইটার আনতে রুমে চলে গেলো। তারপর সুইটার আর লাগেজ নিয়ে আবারও আয়াশের রুমে চলে আসলো। 

" এবার খুশি?? "

আয়াশ " হুমমমম " বলে লাগেজে ইশার কাপড়ের সাথে নিজের জন্য ও কাপড় নিয়ে তারপর ইশাকে নিয়ে বেরিয়ে গেলো। ড্রয়িং রুমে মা ছোট মা, বাবা চাচ্চু সবাই ছিলো। 

" মা! ছোট মা! আসছি আমরা। বাবা! চাচ্চু! আসছি। 

" আয়াশ! সবাধানে যাস। 

আনিসা বেগমের কথায় সাই দিয়ে হাসান মাহমুদ ও বলে উঠলেন----

" হ্যাঁ রে আয়াশ! তোর ছোট মা ঠিকই বলেছে। সাবধানে যাস। আর গাড়িও সাবধানে চালাস। 

" আয়াশ! ইশাকে দেখে রাখিস। ইশা মা! আয়াশের সাথে সাথে থাকিস, কেমন?? 

রুকসানা বেগমের কথায় ইশা সম্মতি জানিয়ে বললো---

" আচ্ছা বড় আম্মু! 

" আয়াশ! তোর মা না বললেও কিন্তু কথাটা আমি বলতাম। ইশাকে দেখে রাখবি। বুঝেছিস?? 

বাবার কথায় আয়াশ আশ্বাস দিয়ে বললো--- 
" আচ্ছা। তোমরা এটা নিয়ে চিন্তা করোনা। "

" হ্যাঁ ভাইজান! আয়াশ ঠিক ইশাকে দেখে রাখবে। আমার পুরো বিশ্বাস আছে। দেখছোনা আমরা টেনশন করছিনা? তুমিও টেনশন করোনা। আয়াশ যা। বিসমিল্লাহ করে বের হয়ে যা। "

বড় ভাইয়ের হাত থেকে আয়াশকে বাঁচাতে হাসান মাহমুদ কথাটা বললেন। রায়হান মাহমুদ আর কিছু বললেন না। 

" ওকে চাচ্চু। আসছি তাহলে। ইশা চল। "

এই বলে আয়াশ ইশাকে নিয়ে বের হয়ে গেলো। তারপর ইশাকে দাঁড় করিয়ে ও পার্কিং থেকে গাড়ি আনতে গেলো। একটু পরে আয়াশ গাড়ি নিয়ে আসলে ইশা গাড়িতে উঠে বসে পড়লো। আয়াশ আবারও গাড়ি স্টার্ট দিলো। গাড়ি চলতে শুরু করেছে। আয়াশ গাড়ি চালাচ্ছে, আর ইশা ওর পাশের সিটে বসে বাইরের দিকে তাকিয়ে আছে। আয়াশ সামনে তাকিয়ে ড্রাইভিংয়ে মনোযোগ রেখেই বললো---- 

" আজ মনে হচ্ছে আটা ময়দা কম পড়ে গিয়েছে। ঘরে আটা ময়দা ছিলোনা বুঝি??  নাকি দাম বেড়ে গিয়েছে বলে কম মেখেছিস??  হুম??

" কম পড়বে কেন?? আমি সাজলে তো তোমার আবার ইজ্জত চলে যায়। তাই কম সেজেছি আজ।

" তাই নাকি??

" হুমমম। তুমিই তো বললে নিশি আপুর বিয়েতে, আমাকে এভাবে আর কখনো সাজতে দেখলে নাকি আর কোনোদিন কোথাও নিয়ে যাবেনা। আমি সাজলে যদি তুমি আমাকে রেখেই চলে যাও! তোমার কোনো বিশ্বাস নেই। তাই সাজিনি। বলতে পারো বিয়েতে যাওয়ার সুযোগটা হাত ছাড়া করতে চাইনি। 

" বাহ! অনেক বুদ্ধিমান হয়ে গেছিস দেখছি।

" বুদ্ধিমান নয়; বুদ্ধিমতী হবে। কারণ বুদ্ধিমান শব্দটা পুংলিঙ্গ। আর স্ত্রী লিংঙ্গ হলো বুদ্ধিমতী। 

" আরে বাপ রে, মনে তো হচ্ছে আমি ইশার পাশে নয়, কোনো লেকচারারের পাশে বসে আছি। তা ম্যাম! হঠাৎ এতোটা বুদ্ধি কোথা থেকে উদয় হলো শুনি??

" সেটা আমার সবসময় থাকে। শুধু দেখায় না আর কি। ইউ নো না! ভরা কলসি বাজে কম। 

" আই নো, তার জন্যই তো তুই বেশি বাজিস। 

" মোটেও না। আমি কমই বাজি। তাই এক্সামপলটা দিয়েছি। নয়তো বলতাম, খালি কলসি বাজে বেশি। 

" হুমমম বুঝতে পারছি। ম্যাডামের এতোদিন পর সুবুদ্ধির উদয় হয়েছে। গুড,, বেরি গুড। তা আজ এ্যাসাইনমেন্ট গুলো জমা দিয়েছিলি?? 

" হুমমম। আজ না দেওয়ার জন্যই কি কাল রাতে তাড়াহুড়ো করে করিয়েছিলাম?? 

" বলা যায় না। তুই তো আবার আমাকে কষ্ট দেওয়ার জন্যও মাঝে মাঝে না লাগলে সেটাও করিয়ে নিস। তা কিছু বলেছে স্যার?? আই মিন কোনো ভুল টুল হয়েছে?? 

" তুমি করে দিয়েছো। কোনো ভুল কি হতে পারে?? ইনফ্যাক্ট ক্লাসের সবার থেকে আমারটা বেস্ট হয়েছে। 

" কি বলিস?? আমি তো মাঝে মাঝে ভুল লিখে দিয়েছিলাম। যাতে স্যারের হাতে মার খাস। আর তুই বলছিস স্যার তোরটা বেস্ট হয়েছে বলেছে?? আচ্ছা স্যার ভালো করে পড়ে দেখেছে তো?? নাকি লিখা সুন্দর দেখে নাম্বার দিয়ে দিয়েছে?? 

" কি জানি?? হয়তো তুমি ইচ্ছে করে ভুল লিখেছিলে সেটা স্যার বুঝতে পেরেছে। তাই বেস্ট হয়েছে বলেছে। 

" হয়তো বা। কিন্তু আমার খুব আফসোস হচ্ছে। ভেবেছিলাম তোকে মার খাওয়াতে পারবো। কিন্তু সেটা আর হলোনা। 

" এতো আফসোস করছো কেন?? স্যারের হাতে মার খায়নি বলে যখন তোমার খারাপ লাগছে; তখন তুমি নাহয় মেরে দাও কয়েকটা। 

" আরে সেটা সম্ভব হলে তো কবেই মেরে দিতাম। 

" কেন সম্ভব না?? 

" আর কেন?? আমি মারলে তো তুই আবার দৌড়াতে দৌড়াতে বাবা মা'কে আই মিন তোর প্রাণের বড় আব্বু আর বড় আম্মুকে গিয়ে বলবি। তাই সম্ভব না। আমি বাবা বাবার বকা খেতে পারবোনা। 

" তুই যে আমাকে কেন মারতে পারবিনা আমি সেটা ভালো করেই জানি ভাইয়া। তুই যতোই মুখে না বলিস, আমি তো বুঝি তোর ফিলিংসটা। ইশা অতোটাও ছোট নয় যে, একটা ছেলের মনের ফিলিংস বুঝবেনা। আর এ্যাসাইনমেন্ট টাতেও যে কোনো রকম ভুল কিছু লিখিসনি সেটা আমি জানি। ইনফ্যাক্ট তুই যে নিজের বেস্ট টা দিয়ে আমার এ্যাসাইনমেন্টটা করে দিয়েছিস সকালে এ্যাসাইনমেন্ট টা পড়ে দেখার পর আমি বেশ ভালো করে বুঝেছি। "

ইশাকে চুপ করে থাকতে দেখে আয়াশ বললো----- " কি রে, কিছু বলছিস না যে?? মনে মনে কি এমন ভাবছিস?? "

" আ ব কিছু না। "

তখনই ইশা খেয়াল করলো ওদের গাড়ি আরিফদের বাড়ির রাস্তা ফেলে চলে যাচ্ছে। ইশা যেহেতু আগেও দুয়েকবার গিয়েছিলো আয়াশের সাথে। তাই আরিফদের বাড়ির রাস্তাটা চিনতে ওর বিন্দু মাত্র বেগ পেতে হয়নি। কিন্তু আয়াশকে আরিফদের বাড়ির রাস্তা অতিক্রম করতে দেখে ইশা সাথে সাথে চেঁচিয়ে উঠলো -----

"" ভাইয়া! গাড়ি ঘুরাওও। ঘুরাও গাড়ি। "

আয়াশ গাড়ি না থামিয়ে ড্রাইভিংয়ে মনোযোগ রেখে বললো----" কেন?? হঠাৎ গাড়ি ঘুরাবো কেন?? "

" আরে ঘুরাতে বলেছি ঘুরাও না। তুমি দেখছোনা আমরা আরিফ ভাইয়াদের বাড়ির রাস্তা ফেলে চলে এসেছি?? তুমি কি আরিফ ভাইয়াদের বাড়ির রাস্তা ভুলে গিয়েছো?? নাকি পাগল হয়ে গেছো??  

" আমি মোটেও ভুলিনি। আর পাগল আমি হয়নি, পাগল হয়েছিস তুই। আজকাল মানুষ বাড়িতে বিয়ের অনুষ্ঠান করে নাকি?? বিয়ে হচ্ছে রিসোর্টে। তাই আমরা সোজা রিসোর্টে চলে যাচ্ছি। 

" ওওও সেটা আগে বলবেনা?? কিন্তু রিসোর্টে হচ্ছে শুনে আমার একটা কথা ভেবে মন খারাপ হচ্ছে। 

" কি কথা??

" ভেবেছিলাম বাড়িতে হলে রাতে বেশি না হোক একটু হলেও ঘুমাতো পারবো। কিন্তু এখন তো মনে হচ্ছে সেটাও আর হবেনা। কারণ রিসোর্টে তো আর শোয়ার জন্য রুম থাকেনা।

" তুই কি বিয়েতে যাচ্ছিস নাকি ঘুমাতে যাচ্ছিস?? কোনটা?? 

" বিয়েতেই যাচ্ছি। বাট এতো বড় একটা রাত জেগে জেগে কি করবো?? অনুষ্ঠান শেষ হলে তো একটু ঘুমাতে হবে তাই না?? 

" মাথা মোটা কোথাকার। ওরা কি এতো গুলো মানুষকে না ঘুমিয়ে রাখবে?? রিসোর্টটা তিন তলা বিশিষ্ট। গ্রাউন্ড ফ্লোরে অনুষ্ঠান হবে। আর সেকেন্ড এবং থার্ড ফ্লোরে গেস্টরা থাকবে। এখন খুশি??

" হুমমম। তবে তুমি যাই বলো, আমার এসব হোটেল টোটেলে বিয়ের অনুষ্ঠান করা ভালো লাগেনা। আমাদের বিয়ের অনুষ্ঠান কিন্তু আমি বাড়িতেই করতে বলবো। 

আয়াশ অবাক কণ্ঠে বললো ----" হোয়াট?? তুদের বিয়ে মানে?? "

" আ ব না মানে, আমি যেহেতু মেয়ে তাই একদিন না একদিন বিয়ে তো হবেই। আর আমার সাথে যার বিয়ে ঠিক হবে আমি তার কথা বলছি৷ আমাদের বিয়েটা বাড়িতেই করতে বলবো। 

" বাব্বাহ! এতো দূর ভেবে রেখেছিস?? তা হানিমুনটা কোথায় করবি ভেবেছিস?? না মানে যখন বিয়ে কোথায় হবে এটা ভেবে রেখেছিস, তাহলে হানিমুনে কোথায় যাবি সেটাও নিশ্চয় ঠিক করে রেখেছিস। কোথায় যাবি?? ব্যাংকক? নাকি দার্জিলিং? নাকি ব্রাজিল? আর নাকি থাইল্যান্ড?? 

" ছেহ! এসব জায়গায় মানুষ যায়?? আমি এসবের একটাতেও যাবোনা। 

" ওওও,  তা ম্যাম! আপনার কোন জায়গাটা পছন্দ শুনি?? 

" সুইজারল্যান্ড। 

" এতো গুলো জায়গা থাকতে তোর সুইজারল্যান্ড পছন্দ কেন?? 

" কারণ আমি সুইজারল্যান্ডে গিয়ে আমাদের ভালোবাসার নিদর্শন রেখে আসতে চাই। তুমি তো শুনেছো নিশ্চয়?? সুইজারল্যান্ডে একটা লাভলক ব্রিজ আছে। আর সেটাতে প্রতিদিন কোটি কোটি মানুষ তাদের ভালোবাসাকে তালা বন্ধ করে চাবিটা সেই ব্রিজের নিচে ফেলে দিয়ে আসে। তাই আমিও আমাদের ভালোবাসাটা তালা বন্ধ করে চাবিটা সেই ব্রিজের নিচে ফেলে আসতে চাই। 

" সেটা নাহয় বুঝলাম। বাট আমাকে এটা বল যে, মানুষ হানিমুনে যায় বিয়ের কিছুদিনের মধ্যে। তুই কি বিয়ে হওয়ার সাথে সাথেই তোর হাসবেন্ডকে ভালোবেসে ফেলবি?? তাও এতোটাই ভালোবাসা যে লাভলক ব্রিজে গিয়ে তুদের ভালোবাসাটা তালা বন্ধ করে আসতে চাস?? বিয়ের কয়েক দিনের মধ্যে কাউকে এতোটা ভালোবাসা সম্ভব?? 

" আ ব ব না মানে হতেও তো পারে। হতে পারে মানুষটা এমন যে ওকে ভালো না বেসে থাকায় যাবেনা?? ভালোবাসা জন্মানোর জন্য মাস বছর কিংবা যুগ লাগেনা। যদি মানুষটা আমার মনের মতো হয়, যদি মানুষটা আমি ঠিক যেমনটা চায় তেমনটা হয়, সবচেয়ে বড় কথা হলো মানুষটা যদি আমার প্রতি কেয়ারিং হয়, তাহলে আমার মনে তার জন্য ভালোবাসা জন্মাতে মাস বছর যুগ কেন, মিনিটও লাগবেনা। 

" বাপ রে, মনে তো হচ্ছে আমার পাশে ইশা নয় কোনো লাভ গুরু বসে আছে। তোকে আমি আসলে যতোটা ছোট ভাবি, তুই কিন্তু ততোটাও ছোট নস। বিয়ে বাদ দিয়ে হানিমুনে কোথায় যাবি সেটা পর্যন্ত ভেবে রেখেছিস, ভাবা যায়?? 

" কেন? তোমার রাগ হচ্ছে আমি এসব ভেবে রেখেছি বলে??

" মোটেও না। তুই তোর হাসবেন্ডকে নিয়ে কোথায় যাবি না যাবি সেটা ভেবে রাখতেই পারিস। আমি এখানে রাগ করবো কেন??? 

" সেই ভালো। এমনিতেও রাগ জিনিসটা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকারক। 

" তবে হ্যাঁ, তুদের হানিমুনের স্পনসারটা কিন্তু আমি করবো। তোর কোনো আপত্তি নেই তো?? 

" মোটেও না। উল্টো আমার তো খুশি লাগছে। আমার হাসবেন্ডের কতো গুলো টাকা বেচে যাবে। "

আয়াশ আর ইশা কথা বলতে বলতে বেশ কিছুক্ষণ পর ওরা হোটেলে এসে পৌঁছালো। আয়াশ গাড়িটা পার্কিং সাইডে রেখে ইশাকে নিয়ে ভিতরে গেলো। আরিফ তখন মেইন ডোরে দাঁড়িয়ে গেস্টদের ওয়েলকাম করছিলো। আয়াশ আর ইশাকে দেখে ওর মুখের হাসিটা আরও একটু প্রশস্ত করে আয়াশকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরলো। 

" আরে শালা! এতক্ষণ পর আসার সময় হলো?? কখন থেকে তোর জন্য ওয়াইট করছি। "

আরিফের কথা শুনে আয়াশ হেসে বললো---- 
" আরে অফিস থেকে ফিরতে একটু লেট হয়ে গেছে। ভেবেছিলাম বিয়েতে আসবো বলে দুপুরেই অফিস থেকে বাসায় ফিরবো। কিন্তু দুপুরের পরপর একটা মিটিং পড়ে গেছিলো। তাই দেরি হয়ে গেছে। 

" তুই শালা আর মানুষ হলিনা। সবসময় দেখো অফিস মিটিং এসব নিয়েই পড়ে থাকিস। আমার তো ইশার জন্য খারাপ লাগে। বিয়ের পর না জানি তুই......

" আরে আমার সাথে ইশা এসেছে তো। ওর সাথে হাই হ্যালো কর। "

আরিফ বেশ বুঝতে পারছে আয়াশ কথা ঘুরাতে চাইছে। তাই সে ও আর কথা সেদিকে না নিয়ে ইশার দিকে হাত বাড়িয়ে দিয়ে বললো---  

" হাই ইশা! কেমন আছো?? 

" জি ভাইয়া ভালো। তুমি কেমন আছো?? 

" এই তো যেমন দেখছো। এসো ভিতরে এসো। আয়াশ আয়। আর লাগেজটা এদিকে দে। 

" তুই ইশাকে নিয়ে যা। আমি আসছি। 

" লাগেজটা তো দিয়ে যা। আমি ওটা সামলে রাখবো। 

" সমস্যা নেই। তুই যা। আমি ওটা রেখে দিবো। আর ইশা! এদিক সেদিক ঘুরাঘুরি করিস না। আনহার সাথে বসে থাকিস আমি না আসা অব্দি। ওকে??

" আচ্ছা। 

আয়াশ চলে গেলো। আরিফও ইশাকে নিয়ে ভিতরে চলে গেলো। আনহা তো ইশাকে পেয়ে বেশ খুশি। ইশাকে দেখেই উৎফুল্ল কণ্ঠে বললো---- 

" আরে ইশা যে, কেমন আছো?? 

" ভালো আছি। তুমি?? 

" আমিও ভালো আছি। তুমি জানো তুমি আসায় আমি কতোটা খুশি হয়েছি?? থ্যাংক ইউ সোওও মাচ্ আমার বিয়েতে আসার জন্য। আমি তো ভেবেছিলাম আয়াশ ভাইয়া তোমাকে আনবেনা। আমি খুব খুশি হয়েছি ভাইয়া তোমাকে এনেছে। তা আয়াশ ভাইয়া কোথায়?? 

" জানি না কোথায় গিয়েছে। আসছি বলে কোথায় চলে গেছে। 

" আচ্ছা সমস্যা নেই। আয়াশ ভাইয়া তো আরিফ ভাইয়াদের সাথে থাকবে। তুমি আমাদের সাথে আছো সেটাই অনেক। কি রে ভাইয়া তুই এখনও দাঁড়িয়ে আছিস কেন?? ওওও বুঝতে পেরেছি। ইশাকে দেখে রাখতি বলবি, তাই তো?? নিশ্চয় আয়াশ ভাইয়ার অর্ডার এটা?? তুই নিশ্চিন্তে যা। আর আয়াশ ভাইয়াকে বলিস উনার জিনিস আমি একদম সেফ রাখবো। 

" তুই একটু বেশিই বকবক করিস। আসার পর থেকে শুধু কথাই বলছিস। ইশাকে নাস্তা দে। আমি বাইরে যাচ্ছি। 

" ওকে। 

 আরিফ চলে গেলো। আনহা ইশাকে বসিয়ে ওর সব ফ্রেন্ডদের সাথে পরিচয় করিয়ে দিলো। তারপর ইশাকে বসিয়ে ওর জন্য নাস্তা আনতে গেলো। ইশা আসার পর থেকে ডিনার অব্দি পুরোটা সময় আনহার সাথেই ছিলো। আসার পর থেকে আয়াশের সাথে ওর আর দেখাও হয়নি। শুধু ডিনার করার সময় একবার দেখেছিলো। সেটাও একটু করে। ইশা ডিনারও করেছে আনহা আর ওর ফ্রেন্ডদের সাথে। ডিনারের পর্ব শেষ হতে না হতে ইতোমধ্যে নাচ গানের অনুষ্ঠানও শুরু হয়ে গেছে। সবাই স্টেজের সামনে বসে সেগুলো উপভোগ করছে। ইশাও আনহা আর ওর ফ্রেন্ডদের সাথে বসে বসে সেগুলো দেখছে। আরিফও একপাশে দাঁড়িয়ে নাচ গান দেখছিলো। তখনই সেখানে আয়াশ আসে। আয়াশকে এতো সময় পর দেখতে পেরে আরিফ হেসে বললো---- 

" কি রে, ডিনার করে কোথায় চলে গিয়েছিলি?? 

" একটা কাজে গিয়েছিলাম। আচ্ছা শোন না! তোকে একটা কাজ করতে হবে। 

" কি কাজ?? 

" তেমন কিছু না। আমি ইশার পাশে গিয়ে বসলে তুই জাস্ট আমি যাওয়ার কিছু সময় পর যাবি আর বলবি উপরে রুম আছে। আমরা যেন গিয়ে শুয়ে পড়ি। 

" কি বলছিস?? তোরা এতো তাড়াতাড়ি শুয়ে পড়বি?? এখন তো সবে ১১টা বাজে। এখনই ঘুমাবি??

" আরে আমার জন্য না। আমি হলে তো পুরো রাত কাটিয়ে দিতাম। ইশার জন্য বলছি। ও না ঘুমালে অসুস্থ হয়ে পড়বে। 

" ওওও। কিন্তু আয়াশ উপরের ফ্ল্যাট গুলো তো আমরা বুক-ই করিনি। সেগুলো নাকি কাপলদের জন্য দেওয়া হয়। তাও অনেক দামে। তাই আমরা সেগুলো বুক করিনি। তুই এক কাজ কর না! আমাদের বাসা তো কাছেই আছে। সেখানে চল। তুদের নামিয়ে দিয়ে আমি নাহয় আবার চলে আসবো। 

" আরে এসব নিয়ে তোকে ভাবতে হবেনা। আমি সব ব্যবস্থা করে নিয়েছি। রুমও ম্যানেজ হয়ে গেছে। আমি হোটেলের ঔনারের সাথে কথা বলে নিয়েছি। তুই শুধু ইশার সামনে গিয়ে কথাটা বললেই হবে। 

" কি বলিস?? রুমও ম্যানেজ হয়ে গেছে??  রুম গুলো তো অনেক দাম দিয়ে বুক করতে হয়। একটা রাতের জন্য শুধু শুধু এতো গুলো টাকা ফেলে দিবি?? 

" আরে বেশি টাকা কোথায়?? জাস্ট ওয়ান টোয়েন্টি লাক্স। আর ইউ নো না! ইশার জন্য এসব সামান্য। তুই শুধু আমার কাজটা করে দে। বাকিটা আমি সামলে নিবো। আর হ্যাঁ, এই চাবিটা রাখ। আমাদেরকে রুমের চাবি দিতে হবেনা তোর?? 

" তুই এতো তাড়াতাড়ি শুয়ে যাবি?? তোকে তো আমি আগেই বলেছি। ফ্রেন্ডদের জন্য ব্যান্ড ভাড়া করেছি। ১২টার পর ব্যান্ডের গান শুরু হবে। আর তুই তো ব্যান্ডের গান অনেক ভালোবাসিস। এক কাজ করিস, ইশা ঘুমিয়ে পড়লে তুই বাইরে তালা লাগিয়ে চলে আসিস। 

" পাগল হয়েছিস?? ইশাকে একা একটা রুমে রেখে আমি নিচে আসবো?? ওর থেকে আমার কাছে ব্যান্ডের গান শোনা বেশি হয়েছে নাকি!! ওকে রুমে রেখে আমি ব্যান্ডের গান শুনতে আসলে আমি রুমে গিয়ে দেখবো, পাগলিটা ভয়ে না ঘুমিয়ে বসে বসে কাঁদছে। আমি ওকে নিয় কোনো রিস্ক নিতে চায় না। তাই তোকে যেটা বলছি সেটা কর। 

" আমার কিন্তু এবার ডাউট হচ্ছে। তুই শালা এখানে বিয়েতে এসেছিস? নাকি হানিমুন করতে?? একে তো মাত্র একটা রাতের জন্য ১ লাখ বিশ হাজার টাকা দিয়ে একটা রুম নিয়েছিস।  তার উপর এখন আবার ১১টা বাজতে না বাজতেই রুমে যেতে চাইছিস। মতলবটা কি?? "

চলবে.......
®আয়মন সিদ্দিকা উর্মি

আপনাকে অনেক ধন্যবাদ হৃদয় জুড়ে শুধুই তুই ♥ || পর্ব - ২২ || সেরা রোমান্টিক উপন্যাস || ভালোবাসার গল্প | AduriPakhi - আদুরি পাখি এই পোস্ট টি পড়ার জন্য। আপনাদের পছন্দের সব কিছু পেতে আমাদের সাথেই থাকবেন।

إرسال تعليق

Cookie Consent
We serve cookies on this site to analyze traffic, remember your preferences, and optimize your experience.
Oops!
It seems there is something wrong with your internet connection. Please connect to the internet and start browsing again.
AdBlock Detected!
We have detected that you are using adblocking plugin in your browser.
The revenue we earn by the advertisements is used to manage this website, we request you to whitelist our website in your adblocking plugin.
Site is Blocked
Sorry! This site is not available in your country.
A+
A-
দুঃখিত লেখা কপি করার অনুমতি নাই😔, শুধুমাত্র শেয়ার করতে পারবেন 🥰 ধন্যবাদান্তে- আদুরি পাখি